
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে পুনঃখননকৃত ১,৮০০ মিটার দীর্ঘ বারখাল পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকাল
৪টায় তিনি নৌকাযোগে সমগ্র খাল পরিদর্শন করেন এবং খননকাজের অগ্রগতি ও সুফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের খাল খনন এবং দখলকৃত খাল সমূহ উন্মুক্ত করা হবে। টুঙ্গিপাড়ায় মৎস্য প্রকল্পের দখলে থাকা খালগুলোও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কৃষকেরা সহজে তাদের জমির ধান ও অন্যান্য ফসল নৌপথে বাড়িতে আনতে পারবেন। এতে মৎস্যজীবী ও কৃষক উভয়েই উপকৃত হবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।
খাল খনন পরিদর্শনকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “যতটুকু খননের কথা ছিলো গভীরতা কোথাও কোথাও তার চেয়েও বেশি খনন করা হয়েছে। এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কৃষকেরা সহজেই ধান ও কৃষিপণ্য বাড়িতে পরিবহন করতে পারবেন।”
জেলা প্রশাসক খাল পরিদর্শনের সময় নৌকায় ভ্রমণ করে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছি। নৌকায় করে পুরো খাল ঘুরে দেখতে আমার খুব ভালো লাগছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারখালটি পাকুড়তিয়া বাজার জামে মসজিদ এলাকা থেকে পারঝনঝনিয়া খাল পর্যন্ত পুনঃখনন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট ও নাব্যতা সংকটে থাকায় স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। পুনঃখননের ফলে খালটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএনও জহিরুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইজিপিপি (EGPP) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে খালটি খনন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষি, মৎস্য এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।