
কে এম সোয়েব জুয়েল,
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র নিজেদের অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিরোধী মহল সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
এছারাও উপজেলার একটি ইউনিয়নের এক তহসিলদারের কাছে আর্থিক সুবিধা দাবি করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। একইভাবে উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় ৩৬৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ২১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব নেই বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক মোঃশেখ শিহাবউদ্দিন বলেন, “কৃষকরা ধান নিয়ে এলে নির্ধারিত আর্দ্রতার মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। অনেক সময় আর্দ্রতা বেশি থাকলে গুদামের পাকা মাঠে ধান শুকিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। এতে কৃষক ও সরকার উভয়ই উপকৃত হয়।”
তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরবরাহকৃত কৃষকদের তালিকা গুদামে প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখা হয়েছে এবং ধান সংগ্রহ কার্যক্রম তদারকির জন্য
২৪ শে মে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় স্বয়ং নিজে বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদম পরিদর্শন করেন এসময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সহকারী কমিশনার ভূমি, ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন ও তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে কোন রকমের অনিয়ম হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে তা কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হবে। তাই প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।