
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিনব কৌশলে শরীরে লুকিয়ে রাখা ১৮৮ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫-এর সিপিসি-১ এর একটি গোয়েন্দা দল জানতে পারে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ হেরোইন রাজশাহীর দিকে পাচার করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের গোপালপুর এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে নজরদারি শুরু করে।
রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মোঃ সিজার আহম্মেদ নয়ন (২৫) ও আমরুল মৃধা (৫০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হেরোইন বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তারা নিজেদের শরীরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা মাদকের প্যাকেট বের করে দেন। র্যাব জানায়, দুই আসামি তাদের পায়ের রান অংশে কসটেপ দিয়ে শক্তভাবে পেঁচিয়ে হেরোইনের প্যাকেট দুটি গোপন করে রেখেছিল। উদ্ধারকৃত দুটি প্যাকেট থেকে মোট ১৮৮ গ্রাম নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য হেরোইন জব্দ করা হয়।
র্যাব-৫ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন স্থানে খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।
অভিযানে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত হেরোইন আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, মাদক পাচারে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতেও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
র্যাব-৫-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নির্মূলে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পাচার রোধ এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র্যাবের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে।”
এ ঘটনায় আটক দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল র্যাবের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে সীমান্ত অঞ্চলে মাদক পাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাদকের বিস্তার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।।