
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৫নং শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্যামকুড় গ্রামের বউ বাজার পাড়ায় দীর্ঘদিন যাবত জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঝিনাইদহের কোঁট আদালতে থাকা চলমান মামলা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আফছার আলী মন্ডলের বসত বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে । এঘটনায় আফছার আলী পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় ভাবে প্রাচীর বিহীন ফাঁকা বাড়িতে জীবন যাপন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫জুন সকাল ০৮ ঘটিকার দিকে। এতে আফছার উদ্দিনের প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উক্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রত সমাধান না হলে উভয়ের মধ্যে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে খুন খেলাপি সহ রক্তক্ষয়ীর সংঘর্ষ।
এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ আফছার আলী জানান গত ২২/২৩ বছর আগে গ্রামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে শ্যামকুড় মৌজার ২৭৮২ নং খতিয়ানের ৫৬,৫৭ ও ৫৮ দাগে ১২ শতক জমি ক্রয় করে গত ২০/২১ বছর যাবত পাঁকা বসত বাড়ি তৈরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। বাড়ির পাশে সুলতান নামের এক ব্যক্তি তঞ্জকিপুর্ণ কাগজপত্র দেখিয়ে জমিটি তাহার বলে দাবি করে থানা ও কোঁট আদালতে একের পর এক মামলা দায়ের করেন। যাহা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোঁট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এবিষয়ে আপোষ মিমাংসা করার লক্ষে থানা ও গ্রাম্য ভাবে স্থানীয়দের মাধ্যমে বেশ কয়েকদফা উভয়ের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হলেও আজ পর্যন্ত তার কোন সুরহা হয়নি।
সম্প্রতি সংঘটিত বিবাদীগন বাড়ি ঘর, বাথরুম, টিউবয়েল, গোশলখানা, ও বাড়ির প্রবেশ করা গেট ও রান্নাঘর, গোয়ালঘর গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আফছার আলী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ সুলতান আলী সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসা করার জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসাবসি করেন। সেখানে মিমাংসা না হওয়ায় পরে স্থানীয়দের উপর দ্বায়িত্ব্য দেওয়া হয়। আপোষ মিমাংসার স্বার্থে স্থানীয়রা উভয়পক্ষকে নিয়ে গ্রাম্য ভাবে বসাবসি করলেও তার কোন সুরাহা হয়নি ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে হতাশায় মধ্যে পড়ে চরম ভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে।
এবিষয়ে মামলার বিবাদী সুলতান আহাম্মেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন জমিটি আমার বাপ দাদার, যার বৈধ কাগজ পত্রের মালিক হলাম আমি, আফছার আলী অবৈধ ভাবে কাগজপত্র তৈরি করে দখল সুত্রে বসবাস করছে। আমি আদালতের মামলায় রায় পেয়েছি, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আফছার আলী আদালতে আবার আপিল করেছে।
শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর ঝিনাইদহ।