
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
স্টাফ রিপোর্টার।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী এক তরুণীর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ইনসের আলী, ৫৮, কে গ্রেপ্তার করেছে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ। মামলা দায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার, ১৩ জুন, রাতে ভুক্তভোগীর বাবা রোস্তম আলী বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০, সংশোধিত, এর ৯,১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওসি, মো. মোক্তারুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামের ঝাঁপুকুর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে কৌশলে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে ইনসের আলীর বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগীর মামা আবুল কাশেম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে।
রবিবার, ১৪ জুন, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি ইনসের আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওসি, মো. মোখতারুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি ইনসের আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সচেতনতামূলক প্রতিবেদন: প্রতিবন্ধী মানুষও মানুষ—তাদের নিরাপত্তা আমাদের দায়িত্ব
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষটিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী মানুষেরা নিজেদের রক্ষা করতে পারেন না, তাই তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের সবার।
পরিবার ও প্রতিবেশীর করণীয়,
একা ছাড়বেন না।প্রতিবন্ধী সন্তান বা স্বজনকে নির্জন জায়গায়, অচেনা মানুষের সঙ্গে একা ছাড়বেন না।
সচেতনতা শেখান, সহজ ভাষায় ভালো স্পর্শ, মন্দ স্পর্শ,বোঝান। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে শেখান।
দ্রুত রিপোর্ট করুন: এমন ঘটনা দেখলে বা সন্দেহ হলে সঙ্গে ৯-এ কল করুন। পুলিশের সহায়তা নিন। লজ্জা বা ভয়ের কারণে চেপে রাখবেন না।
সম্মান দিন, অবহেলা নয় প্রতিবন্ধী মানুষকে বোঝে না।বলে গুরুত্ব না দেওয়া যাবে না। তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সবই সমান অধিকার।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী নারী বা শিশুর সঙ্গে যৌন অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। আইন কাউকে ছাড় দেবে না।
ক্ষেতলাল থানা পুলিশের বার্তা,অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। ভুক্তভোগী ও পরিবারের পাশে পুলিশ আছে।
একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে সবচেয়ে দুর্বল মানুষটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে,এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।