
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ সীমান্তে ঘটে যাওয়া দেশব্যাপি আলোচিত সেই ষষ্টি চন্দ্র বর্মন এখন পরিবারের হেফাজতে। শান্তি ফিরেছে পুরোপরিবার তো বটেই গ্রামেও। একদম সাদামাটা মানুষ।
নিজের তিনি গুছিয়ে কথা বলতেও পারেনা বুঝতেও পারেনা সকল কথা। অভাবী সংসার। চার মেয়ে ১ ছেলে। প্রথম স্ত্রী ১ ছেলে ১ মেয়ে রেখে চলে গেছে। পরের সংসারে আরো তিন মেয়ে। এর মধ্যে একটি বিধবা। থাকে তারই বাড়ীতে। হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে দারিদ্রতা আর অর্থঅভাবে।
তার বাড়ীর কি অবস্থা ভাল নয়। ঠিকমতো ঘরের ছাঁউনিটাও নেই। আর কি বলবো অন্যসব অভাব অনটনের কথা। ঘটনার আলোচনায় আসা ষষ্টির চন্দ্রর সরকারি ভাবে পাশে দাঁড়ানো অতীব প্রয়োজন। বয়স ৬৫ বয়স্কভাতাটাও জরুরী।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে করে ষষ্টি চন্দ্রকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। ঘরে টিন জরুরী। পাঁকা দেওয়াল প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার ও জেলা প্রশাসক সদয় দৃষ্টি দিবেন।
উল্লেখ্য তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫)। পরিবার যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল, তখন দেশের আলোচিত এক সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে মিলেছে তার সন্ধান। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশ-ইনের শিকার হিসেবে উদ্ধার হওয়া সেই বৃদ্ধই যে গোদাগাড়ীর নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন, তা নিশ্চিত করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয় বিজিবি। পরে বিজিবি নিশ্চিত করে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মন একজন বাংলাদেশি নাগরিক। পরিবারের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ট্রেনে চড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন। এরপর কীভাবে তিনি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমুল হাছান বলেন, ‘ষষ্ঠী বর্মণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা জামালপুরে পৌঁছালে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এর আগে বুধবার সকালে জামালপুর জেলার কামালপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণকে বাংলাদেশে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেন বিএসএফ সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে ততর্কবিতর্ক হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রেখে চলে যান। বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে তাকে থানা হেফাজতে পাঠানো হয়।
তিন মাসের অনিশ্চয়তা, সীমান্তের শূন্যরেখায় কাটানো দীর্ঘ সময় আর পরিবারের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষা-সবকিছুর শেষে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ফিরে আসায় এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।