রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

বু-লিং ও রে-গিং রোধে আইন প্রনয়ণ,প্রয়োগ না-কি সচেতনতা?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৬৮ Time View

বুলিং ও রেগিং শব্দদ্বয়ের সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। বুলিং ও রেগিং হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়া বা হেনস্থা করার আগ্রাসী আচরণ। কাউকে বেনামে ডাকা, কটু কথা বলা,ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক আচরণ করাও এক ধরনের বুলিং ও রেগিং। একক বা দলবদ্ধভাবে সংঘটিত হওয়া এমন পরিস্থিতি ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব। সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে দুর্বল বা নতুনদের লক্ষ্য করে এই কাজগুলো করা হয়। উভয়ই ভুক্তভোগীর মনে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র সহপাঠী বা শিক্ষার্থী নয় অভিভাবকদের দ্বারাও বুলিং ও রেগিং হতে পারে। অনেকের ধারণা বুলিং ও রাগিং শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয় কিন্তু বর্তমানে অনেক অফিস-আদালতেও এসব হচ্ছে। যারা একাজ করে তারা সাধারণত দুর্বল প্রকৃতির মানুষকে বেছে নেয় এবং তাদের শিকার বানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণ করতে দুর্বল প্রকৃতির মানুষকে হাসির পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করে। সমাজে বুলিং ও রেগিং বিষয়টি বর্তমানে চরম আকার ধারণ করছে।

বুলিং (Bullying) হলো এমন এক ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ, যা বারবার করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো, ছোট করা বা তার উপর নিজের ক্ষমতা জাহির করা। বুলিং সাধারণত নিচের রূপগুলো নিতে পারে। ব্যঙ্গ করে নাম ধরে ডাকা, কটুকথা বলা বা উপহাস করা। দল থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া বা গুজব ছড়ানো।ধাক্কা দেওয়া, আঘাত করা বা জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া। ইন্টারনেট বা মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া বা অপমানজনক তথ্য ছড়ানো।

রেগিং (Ragging) সাধারণত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে ঘটে। সিনিয়র বা প্রভাবশালী শিক্ষার্থীরা নবাগত বা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করে। রেগিংয়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-পরিচয়পর্ব বা নবীন বরণের নামে মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করা। জুনিয়রদের জোর করে কোনো বিব্রতকর বা অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা। অপমানজনক অঙ্গভঙ্গি করা বা কুরুচিপূর্ণ কথা বলা।

বুলিং ও রেগিংয়ের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, এমনকি আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। এ ধরনের অপরাধ রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

যারা বুলিং ও রেগিং এর শিকার হয় তাদের মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ততা, খিট-খিটে মেজাজ এমনকি আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বুলিং ও রেগিং প্রতিরোধ না করলে সমাজে গঠনমূলক নেতৃত্ব ও সুনাগরিকের অভাব পরিলক্ষিত হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুলিং ও র‍েগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা- ২০২৩ প্রজ্ঞাপন আকারে একই বছরের ২ মে প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যা ২৯ জুন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই নীতিমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে এক বা একাধিক কমিটি গঠন ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍েগিং পর্যবেক্ষণে স্কোয়াদ গঠনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসান ২০২৩ সালের ৮ই জানুয়ারি রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে একই বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে শিক্ষার্থীদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় বুলিং ও র‍েগিং কার্যক্রম রোধে নীতিমালা প্রনয়নে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব – বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না,বুলিং ও রেগিং থেকে শিক্ষার্থীদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদ্ধতি প্রবর্তনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়। শুনানির পর রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২১ শে আগস্ট। আইন প্রনয়নে কি এ অপরাধ বন্ধ করা যাবে? না কি কঠোর প্রয়োগ’র ও আবশ্যকতা আছে? এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে?

তাহমিদ জেরিন নুর
শিক্ষার্থী,
স্নাতক সম্মান (আইন) প্রথম বর্ষ
নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin