
আজিজুল ইসলাম বেনাপোলঃ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে পুশব্যাক করার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে এই প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।
সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারতীয় আগ্রাসন ও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারির ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “সীমান্তের সাধারণ মানুষের খোঁজ নেওয়ার বা দেখার বাংলাদেশে এখন কেউ নেই।” তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ জনগণ আর চুপ থাকবে না উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা দেন, “এখন থেকে বাংলার দামাল ছেলেরা সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশে এসে দাঁড়াবে।”
সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি দাবি করেন, সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ভারতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ”সীমান্ত হত্যার দায়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশকে অবিলম্বে মামলা করতে হবে। ভারতকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহি করতে হবে।”বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ভারতকে একটি ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বিএসএফ-কে একটি ‘খুনি বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ও বড় হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, ওই ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় খুনের আসামি বাংলাদেশ থেকে কীভাবে পার পেয়ে পালালো?”
সাদীপুর সীমান্ত পরিদর্শনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সীমান্ত এলাকার সাধারণ বাসিন্দা এবং এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পুশব্যাক ঠেকাতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি ও স্থানীয় জনতা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।