রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
সলঙ্গায় কোটি টাকার হেরো-ইনসহ নারী আ/টক আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিএনপি দলীয় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূইয়া ক্ষেতলাল থানা পুলিশের বিশেষ অ/ভিযানে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রে/ফতার ১৮ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসের দখলে জমি,ক্ষ-তিপূরণ না পেয়ে দিশেহারা নূরনাহার বেগম নীলফামারীর নবাগত এসপির ক/ঠোর নির্দেশনা সলঙ্গায় ৯ সরকারি চাকরীজীবির মায়ের দা-ফন সম্পন্ন ময়মনসিংহে জেলা আইন শৃঙ্খ-লা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের-(বালক-বালিকা) প্র-স্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঘাটাইলে বনের ভেতরে ৩ অ/বৈধ করাত কল উ/চ্ছেদ স্বর্গীয় মানিক লাল সাহার ৮৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিএনপি দলীয় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূইয়া

মো.আব্দুর রহিম বাবলু।।
  • Update Time : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৩১ Time View

মো.আব্দুর রহিম বাবলু।। নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:-
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) সংসদীয় আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে দেখি নাই। নাঙ্গলকোটকে নিয়ে একটি নিউজ করতে। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই। সেভাবে চলতে হবে।

গত শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে বার-বার ফ্যাসিস্টের দোসর বলে আখ্যায়িত করেন। এনিয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেননি বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। সাংবাদিক মজিবুর রহমান মোল্লাকে তার নিকট ক্ষমা চাইতেও বলেন। এছাড়া অন্যান্য সাংবাদিকরাও কোন কথা বলতে চাইলে এমপি ধমক দিয়ে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তার একক সিদ্ধান্ত তাদেরকে মানতে হবে বলে শাসান। তার শাসানো নিয়ে কেউ সংবাদ পরিবেশন করলে তাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এসময় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তার পাশে বসে থাকা সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন দুলালকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ওনিও তথাকথিত বিএনপি। আমি ৮ঘন্টা এমপি হওয়ার পথে। ওনি আমারে ফোন করেছেন হাদিয়ার লাই। মনির ফোন ধরে না। আমি ওইদিন থেকে নিজেকে বলছি। এর পর ওনাকে ব্লক মারছি। ৮ঘন্টা। রক্ত ঝরে। মনির ফোন ধরে নাই। ওনি আমাকে ফোন করতে পারেন না। এছাড়া তার পাশে বসে থাকা অন্য দুই সাংবাদিক তাজুল ইসলাম ও কেফায়েত উল্লা মিয়াজীকে ইঙ্গিত করে বলেন , এইতো আমার পাশেদি এখানে জামায়াতের আড্ডাখানা আছে। আমি সব জেনেশুনে আজকে বিষপান করতে বসছি। আমি নিঃস্বার্থ- নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে চাই। যারা আগাই আসবেন। আমার দরজা খোলা। যারা আগাই আসবেন না। আসসালামুআলাইকুম।

সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে আরও বলেন, এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লিখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের বেহাল দশা থাকত না, আরও উন্নত হতো। একপর্যায়ে তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনার বিরুদ্ধে আমার নিকট অনেক অভিযোগ রয়েছে। আপনি আওয়ামীলীগ করে বিএনপি করেছেন। বি এন পি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য গফুর ভূঁইয়ার পারপাস সার্ভ করেছেন।গফুর ভূঁইয়াকে দিয়ে অনেক বেশি বেনিফিট হয়েছেন। আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। স্টেট। আই সে ইউ। ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন? আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে। আমি ডকুমেন্ট নিয়ে কথা বলি। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর কোন আওয়ামীলীগের লোকের সাথে আপোষ করি নাই। আজকে আপনার সঙ্গে কেন মিটিং করব। আমি মিটিং করতে অপারগ।
তিনি বলেন, নঈম নিজাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক) আমার চাচা। ওনিও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে দেশ থেকে পালাইছেন। অনেক সাংবাদিক জেলে রয়েছে। আপনারা নাঙ্গলকোটে মায়ের কোলে আছেনতো। এজন্য আমাকে আন্ডার স্টিমেট করেন। নো আমি কোন ফ্যাসিস্টের দোসরের সাথে বসতে পারি না?
মোবাশ্বের আলম বলেন, এরপরও আপনি আমাদের মাঝে আসছেন সুরসুড়ি দিতে। আমি এমপি হওয়ার পরও বিএনপির সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সাথে ছবি পোস্ট করছেন। গফুর ভূইয়াকে ব্যালেন্স করে স্কুলের সভাপতি হইছেন। থাকতে পারছেন সভাপতি? পারবেন না।
সাংবাদিক মজিবুর রহমান মোল্লাকে সাংবাদিকতা থেকে বাদ দেয়ার উদ্দেশ্যে এমপি হুমকি দিয়ে বলেন, আমি চাইলে আপনি সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। আমি ইত্তেফাকের কর্তৃপক্ষকে বলবো (উনারাও বিএনপি করেন)। আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনাকে এখান থেকে বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের লোক দেওয়ার জন্য তাদেরকে বলবো। আমার সাথে চ্যালেঞ্জ করেন। অলরেডি আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আমি আপনার সাথে মিটিং করবো কিনা (আই মিন ডাউট)। আপনি সরি বলেন। সরি বল্লে ছোট হয়ে যায় না। আমাদের অনেকের জীবনে অতীত থাকে। টনাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জনি বক্তব্য দিতে চাইলে তাকেও থামিয়ে দেওয়া হয়।
সবুজ পত্র সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বপন গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিউজ করাসহ তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মামলা করা নিয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকেও কোন বক্তব্য না দিয়ে থামিয়ে দেন।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এমপি বলেন, আজ থেকে আমরা ভালো কিছু চিন্তা করি।
মতবিনিময় সভায় নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব পুনর্গঠনের কথাও বলেন, এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা সব গ্রুপকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সংগঠন করব। সাংবাদিকতা করতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগে তা নিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্য করা হবে। যা আমার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে করা হবে। সেখানে আপনাদের সাংবাদিকদের লোকও থাকবে। প্রয়োজনে আমরা গঠনতন্ত্র বানাবো। অন্য জায়গা থেকে গঠণতন্ত্র হায়ার করে আনবো।
এসময় সাংবাদিকরা কেউ কোন কথা বলতে চাইলে এমপি তাদেরকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয় । সাংবাদিকরা কিছু বলার থাকলেও মান সন্মান ও ইজ্জতের কথা চিন্তা করে এবং এমপির সম্মান রক্ষার্থে কথা বলা বা প্রশ্ন করা থেকে বিরত ছিলেন । সাংবাদিকদের প্রতি একজন এমপির এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ সাংবাদিক সমাজকে ব্যাথিত করেছে । সাংবাদিক সমাজ সরকার দলীয় এমপি ঔদ্ধত্ব আচরণের তীব্র নিন্দা জানান ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin