
আজিজুল ইসলামঃ যশোরে প্রায় পৌনে ৮ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৩ কেজিরও বেশি ওজনের একুত্রিশটি স্বর্ণের বার ও একটি প্রাইভেট কারসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি।
শনিবার ভোর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ১নম্বর গেইটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাসিআল গ্রামের মৃতঃ মজিবুর রহমানের ছেলে খন্দকার মাহাবুবুল হক এবং যশোর কোতয়ালী থানার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মোহাম্মাদ সানু মিয়ার ছেলে মোহাম্মাদ আনিস।
শনিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেপ্টেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কার তল্লাশী করে ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম ওজনের ৩১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৫ টাকা।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে স্বর্ণ ছাড়াও ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি প্রাইভেট কার, ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি মোবাইল এবং নগদ ৪ হাজার ৮১৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণসহ সর্বমোট জব্দকৃত মালামালের বাজার মূল্য ৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ২১০ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS) এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো খাঁটি স্বর্ণ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার চোরাকারবারীদের কাছ থেকে এই স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে সড়ক পথে ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তা ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
বিজিবির অধিনায়ক উল্লেখ করেন, সীমান্তে মাদক ও স্বর্ণসহ যাবতীয় চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবি সীমান্ত পাহারায় সদা জাগ্রত রয়েছে।
আটককৃত আসামি ও জব্দকৃত স্বর্ণ যশোর কোতয়ালী থানার মাধ্যমে যশোর ট্রেজারিতে জমা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।