
বান্দরবান (থানচি) প্রতিনিধি :মথি ত্রিপুরা ।
বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার বংকুপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ হাম-রুবেলা প্রতিরোধমূলক টিকাদান ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বংকুপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ প্রদীপ পাড়া এলাকায় কয়েকজন শিশু হাম-রুবেলার উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একজন কিশোরীর মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এমতাবস্থায় মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার থেকে সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য জনপদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এরই প্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার থেকে বংকুপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ প্রদীপ পাড়া ও শালুকিয়া পাড়া এলাকায় বিশেষ হাম-রুবেলা প্রতিরোধমূলক টিকাদান ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।
বলিপাড়া জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন-এর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে মেডিকেল অফিসার মেজর তাবেঈন ইয়াসিয়াজ ভূঁইয়া, বিজিওএম, এএমসি এর নেতৃত্বে এবং এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানচি এর সহযোগিতায় একটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম উক্ত টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। উক্ত ক্যাম্পেইনের আওতায় সম্ভাব্য আক্রান্ত শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানের গুরুত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি পুরো কার্যক্রমকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সীমান্ত এলাকার মানুষের কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।