
তরিকুল ইসলাম তরুন।।
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিন উপজেলার ১নং বিজপুর ইউনিয়নের লালমতি এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, যার ফলে সামাজিক অবক্ষয়, চুরি-ডাকাতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার বাসিন্দা মিলন (ওরফে বাবা মিলন) ও তার পরিবারকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয় সমাজপতি ও এলাকাবাসী ওই এলাকা থেকে বহিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তিনি লালমাই উপজেলার লালমতি এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বসতি স্থাপনের পর থেকে তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাদের অভিযোগ, ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনার কারণে এলাকার যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পরও অভিযুক্তরা পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যার পর এলাকায় উত্তেজনার জেরে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, গ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে এলাকায় উদ্বেগ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিঃদ্রঃ উল্লিখিত অভিযোগসমূহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।