রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

‎পাখির কলকাকলিতে মুখর পাইকগাছার হাড়িয়া আবাদ; প্রকৃতিতে নান্দনিক রূপ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ১৯ Time View

‎ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা) ।।

‎সবুজ গাছপালা, শান্ত পরিবেশ আর চারদিকে শুধু পাখির কলকাকলি— এ যেন কোনো কৃত্রিম অভয়ারণ্য নয়, প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া এক স্বর্গরাজ্য। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হাড়িয়া আবাদ গ্রামে এখন দেখা মিলছে এমন মনোরম দৃশ্যের। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাখির আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এই জনপদ।হাড়িয়া গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাশের রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে এলাকাটি যেন এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

‎হাড়িয়া আবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই শুরু হয় পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির গান।এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। এখানকার প্রকৃতি যেন পাখিদের কলতানে এক জীবন্ত রূপ ধারণ করেছে। গ্রামে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে:সাদা বক ও কানি বক পানকৌড়ি ও ডাহুকশালিক, চড়ুই ও বাবুই মাছরাঙা এবং ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাড়িয়া আবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ ঘের এবং জলাশয় পাখিদের জন্য প্রচুর খাবারের জোগান দেয়। এছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ পাখিদের প্রতি অত্যন্ত সদয়। কেউ এখানে পাখি শিকার করে না, বরং পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সবাই সচেতন। বিঘ্নহীন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাবারের খোঁজে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক পাখি এখানে এসে ভিড় করছে। স্থানীয়রা জানান ,আমাদের ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। হাড়িয়া আবাদের এই প্রকৃতি এখন পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিকেল হলে যখন সব পাখি একসাথে বাসায় ফেরে, সেই দৃশ্য দেখার মতো হয়।

‎স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় উপজেলার অন্যান্য এলাকায় পাখির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও হাড়িয়া আবাদে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাখির বিচরণ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই পাখিদের কলতানে মুখর থাকে পুরো গ্রাম।

‎সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে এ এলাকায় পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, গার্গেনি হাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি ও কাদাখোঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীতকালে পুরো এলাকা যেন পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণভূমিতে পরিণত হয়।পাখিদের এই মেলা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বিকেল বেলা হাড়িয়া আবাদের এই নান্দনিক রূপ দেখতে ভিড় জমে বেশি।

‎এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও এ অঞ্চলে নিরাপদ আবাসস্থল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকুক।তিনি আরও বলেন, পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

‎প্রেরকঃ

‎ইমদাদুল হক,

‎পাইকগাছা খুলনা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin