
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা গত রোববার, ১৪ জুন, দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,আলমপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দিন, ৭০ একই গ্রামের মৃত রমজানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন, ৫০ মৃত রমণীকান্তের ছেলে শ্রী নির্মল, ৪৫ পাঠানপাড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিজয়, ৩২
আমানিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক, ২০
গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবনের দায়ে মিরাজ উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিনকে ৫ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড, শ্রী নির্মলকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং বিজয় ও আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি, ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ। সোমবার, ১৫ জুন, সকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি, মোক্তারুল আলম বলেন, মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ-সংক্রান্ত যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ অভিযান নিয়মিত চলবে।
সচেতনতামূলক বার্তা,১ টানা নেশা, ১০ বছরের আফসোস
আলমপুরের এই ৫ জনের বয়স ২০ থেকে ৭০। একটা ভুল সিদ্ধান্তে ২০ বছরের ছেলে আবু বক্কর আর ৭০ বছরের মিরাজ উদ্দিন,সবাই এখন জেলের আসামি। ১ মাস থেকে ৫ মাস জেল,জরিমানা। পরিবার, মান-সম্মান সব শেষ।
ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশে ৩টা কথা,ট্রাই করি, একবারই তো,এই একবারই সর্বনাশ। মাদক একবার শরীরে ঢুকলে মগজের ‘ব্রেক’ নষ্ট হয়ে যায়। পরে ইচ্ছা করলেও ছাড়তে পারবে না।
টেনশনে খাই,মাদক টেনশন কমায় না, টেনশনের বোঝা ১০ গুণ বাড়ায়। লেখাপড়া নষ্ট, কাজ যায়, বন্ধু-পরিবার দূরে সরে যায়। সমাধান হলো মা-বাবা, শিক্ষক বা কাউন্সেলরের সাথে কথা বলা।।ধরা পড়ব না।ক্ষেতলাল থানা এখন ‘জিরো টলারেন্স’। রাত ২টায় হোক বা দিনের বেলা, মাদক সেবন করলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত। রেকর্ডে ‘মাদক মামলা থাকলে চাকরি, পাসপোর্ট, ভিসা সব আটকে যাবে।
আইন কী বলে,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক সেবন করলেও ৩ মাস থেকে ২ বছর জেল, জরিমানা। ব্যবসা করলে যাবজ্জীবন। ১৮ বছরের নিচে হলে শাস্তি আরও কঠোর।
পরিবারের কাছে অনুরোধ,
ছেলে-মেয়ে হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলে, রাত জাগলে, টাকা চাইলে, চোখ লাল থাকলে—রাগ না করে পাশে দাঁড়ান। জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে বিনামূল্যে মাদক নিরাময় পরামর্শ আছে।
ক্ষেতলাল বাসীর কাছে অনুরোধ,
আপনার বাড়ির পাশে মাদকের আড্ডা দেখলে চুপ থাকবেন না। ৯ এ কল দিন। আপনার পরিচয় গোপন থাকবে। একটা ফোন বাঁচাতে পারে ৫টা পরিবার।
মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল চাই? তাহলে আজ থেকেই ‘না’ বলুন।খেলার মাঠে ঘাম ঝরাও, নেশার ধোঁয়ায় নয়।