রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

গোদাগাড়ী-সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর উদ্বোধনের এক বছরেই অচল

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১০ Time View

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের বহু কাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নের সম্ভবনাময়
নৌবন্দর (গোদাগাড়ী-সুলতানগঞ্জ) উদ্বোধনের এক বছরেই অচল।এতে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
জানা গেছে,রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ ও ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দর দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়।কিন্ত্ত
বছর না ঘুরতেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একাধিকবার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আশ্বাস মিললেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি এই সম্ভাবনাময় নৌবন্দর। ফলে স্বল্প খরচে পণ্য আমদানি ও পরিবহনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে শুক্রবার (১২জুন)
সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব সাজেদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নৌবন্দরে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি বন্দরের অফিস, পণ্য খালাসের স্থান ও নদীপথের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে সাজেদুর রহমান বলেন, “একটি নৌবন্দর চালুর জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবগুলোই এখানে সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দর অবকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং যত দ্রুত সম্ভব বন্দরটি চালুর সুপারিশ করব।”
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখন শুধু এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। আশা করছি, দ্রুতই সেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।”পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। পণ্যবাহী জাহাজও এনে রাখা হয়েছে। কিন্তু বন্দর চালু না হওয়ায় আমাদের পণ্য আটকে আছে, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পাথর বাংলাদেশে সড়ক ও রেলপথে আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। নৌপথে পাথর আমদানি করা গেলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে এই নৌরুট দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্ষা মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ চলাচল করতে পারবে। আর শুষ্ক মৌসুমে ৭০০ থেকে ৮০০ টনের জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে।”
জানা যায়, প্রায় ছয় দশক আগে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান নৌপথে নিয়মিত বাণিজ্য কার্যক্রম চলত। তবে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে নৌপথ ও নদীবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।রাজশাহী বিভাগীয় খবর দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় এই নৌপথে বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। চালুর পর মাত্র ১০ দিন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এরপর থেকে বন্দরটি আবারও বন্ধ রয়েছে। ওই সময়ে পাঁচটি নৌযানের মাধ্যমে পাথর ও গার্মেন্টস শিল্পের ঝুট আমদানি-রপ্তানি করা হয়েছিল।এর আগে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষে দ্রুত বন্দর চালুর নির্দেশনা দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি। একাধিকবার চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি সম্ভাবনাময় এই নৌবন্দর।আমদানি-রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ঝুলে আছে। এনবিআর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই বন্দরটি স্থবির হয়ে আছে। যদিও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হলেও বন্দরটি চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে রপ্তানি করা যাবে।বর্তমানে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই কমবে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়রা বলছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না করেই ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোদাগাড়ী- সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া রুট দিয়ে কয়েক মাস পণ্য আমদানি হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ
নৌবন্দর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর বন্দরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বন্দরের অফিস কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর জন্য আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া ঘাট হয়ে পণ্য আমদানি ও পরিবহন ব্যয় অন্তত ৩০ শতাংশ কমবে। এতে রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, বর্তমানে নৌপথে পানি থাকলেও বড় পরিসরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন। মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে পদ্মা নদীর নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ড্রেজিং ছাড়া এই নৌপথকে পুরোপুরি কার্যকর রাখা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া বন্দরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, পানির বর্তমান নাব্যতা অনুযায়ী এই নৌপথে নৌযান চলাচলে কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা নেই। সুলতানগঞ্জ নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা দিনেশ কুমার সাহা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই বন্দরটি চালু করা সম্ভব। তবে অন্যান্য চ্যানেলে নিয়মিত নৌযান চলাচলের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে সুলতানগঞ্জ-ময়া এবং গোদাগাড়ী-লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলত। যুদ্ধের পর এই রুট বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাজশাহী থেকে ভারতের ধূলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার নৌপথ অনুমোদন পেলেও পদ্মার নাব্য সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরে সংক্ষিপ্ত করে সুলতানগঞ্জ-ময়া রুট নির্ধারণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুলতানগঞ্জ
নৌবন্দর পুরোপুরি চালু করতে হলে এনবিআরের অনুমোদনের পাশাপাশি সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই সম্ভাবনাময় নৌবন্দরকে কার্যকর করে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে।#

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin