রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

এবার পুরুষ নি/র্যাতনের প্র/তিবাদে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ২১ Time View

কে এম সোহেব জুয়েল ঃ

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সুইটি আক্তার ও তার বর্তমান স্বামী ফরহাদ বেপারী একত্রিত হয়ে প্রথম স্বামী সোহাগ হাওলাদারকে পরিকল্পিতভাবে গুম ও খুনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সোহাগ হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সালেক হাওলাদারের ছেলে সোহাগ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সামাজিকভাবে তার সাথে ঝালকাঠির চাচৈর গ্রামের খলিল মাঝির মেয়ে সুইটি আক্তারের (২৬) বিয়ে হয়। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান (সাবিহা ইসলাম) জম্মগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর চাকরির সুবাদে গ্রাম ছেড়ে সুইটিকে নিয়ে আমি ঢাকার মধ্য বাড্ডায় বসবাস শুরু করি। চাকরির সুবাদে বন্ধুত্বের মতো পরিচয় হওয়া লিফ্‌ট টেকনিশিয়ান ফরহাদ বেপারী আমার বাসায় আসা-যাওয়ার মধ্যে সুইটি ও ফরহাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ফরহাদ চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় ছেংগারচর (সিঙ্গার চর) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ঢাকা মাতুয়াইল আমান সিটি এলাকায় অবস্থিত “সেভ বিল্ডিং অটোমেশন” নামক প্রতিষ্ঠানে লিফ্‌ট টেকনিশিয়ান পদে চাকরি করেন এবং মালিবাগ এলাকায় বসবাস করেন। ফরহাদের দুই বিয়ে এবং দুই সংসারেই তার সন্তান রয়েছে।

সোহাগ আরও বলেন, সুইটি ও ফরহাদের গোপন সম্পর্কের বিষয়টি আমার কাছে ধরা পরার পর আমি স্ত্রী সুইটিকে নানাভাবে বুঝিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। একপর্যায়ে আমি তাকে তালাক দিয়ে কাবিননামার (নিকাহনামা) টাকা ঝালকাঠি জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিশোধ করি। পরে সুইটি ফরহাদকে বিয়ে করে। তালাকের পর সুইটি বাদি হয়ে আমার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলার হাজিরা সময় আসা-যাওয়ার পথে সুইটি ও তার স্বামী ফরহাদসহ তাদের সহযোগি খলিল মাঝি, হাসান মাঝি ও আমির মাঝি মিলে আমাকে (সোহাগ) গুম বা খুন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমি (সোহাগ) আমার নাবালিকা কন্যা সন্তান সাবিহা ইসলামকে ফিরে পাওয়ার জন্য বাদী হয়ে ঝালকাঠি পারিবারিক জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। কয়েকদিন পর সুইটি ঝালকাঠি বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমাকেসহ আমার মা ও বোন মিলিয়ে তিনজনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যা চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ আরও বলেন, চলতি বছরের ৮ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সুইটি বলেন, “মেয়ে সাবিয়া খুবই অসুস্থ। সারাদিন বাবাকে দেখতে চায়। বিকেল তিনটার দিকে ঢাকার ডেমরা বাসস্ট্যান্ড ওভার ব্রিজের নিচে আসিও”। সে অনুযায়ী আমি ওইদিন বিকেলে ডেমরা বাসস্ট্যান্ডের রাস্তায় মেয়েকে দেখার পর পরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরে আমি নিজেকে একটি ভবনের মধ্যে দেখতে পাই। তবে কীভাবে আমি ওই ভবনের মধ্যে এসেছি তা জানি না। এসময় মেয়ে আমার কাছে ছিলোনা। শুধু সুইটি ও তার স্বামী ফরহাদসহ ৪/৫ জন লোককে দেখতে পাই। সুইটি বোরকা ও মাক্স পরিহিত অবস্থার মধ্যে ফরহাদ ভিডিও করছেন।

তারা আমাকে বলছে, নারী নিয়ে ভবনে অনৈতিক কাজ করতে ঢুকেছো। এ কথা বলে তারা আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে এবং আমার সাথে থাকা ইস্টান ব্যাংকের তিনটি চেকের পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় এবং সাথে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যায়। বের হবার সময় আমি দেখতে পাই মাতুয়াইল আলামিন রোড মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনে আমাকে তারা নিয়েছিল।

সোহাগ বলেন, প্রায় এক মাস পর একটি ইউটিউব চ্যানেলে (নাগরিক ভিউ) “লিফ্‌ট প্রতিনিধি পরিচয়ে ভবনে ঢুকে অনৈতিক কাজে হাতেনাতে আটক” শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায় সোহাগ বলেন, আমি চাই শান্তি এবং সমাধান। কিন্তু তারা গুম খুনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুইটিকে কাবিননামার (নিকাহনামা) টাকা পরিশোধ করার পরেও ফরহাদকে নিয়ে তারা নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আমি সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অভিযুক্ত সেভ বিল্ডিং অটোমেশন নামক প্রতিষ্ঠানের লিফ্‌ট টেকনিশিয়ান ফরহাদ বেপারী মোবাইল ফোনে উল্লেখিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। সুইটির ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার (সুইটি) বাবা খলিল মাঝি মোবাইল ফোনে বলেন, সোহাগ তালাক দেয়ার পর তার মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। কাবিননামার দেনমোহরও সোহাগ দিয়েছে। বর্তমানে দুইপক্ষের মধ্যে সুইটির দায়েরকৃত ৭ ধারার একটি মামলা চলমান রয়েছে। গুম, খুন কিংবা কৌশলে অপহরন করে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin