
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,
কুমিল্লা-টু-মীরপুর আঞ্চলিক সড়কের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি খালের জায়গা দখল করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ স্থাপনার অংশবিশেষ অপসারণ এবং জরিমানা আরোপের পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি খালের ওপর একটি বাণিজ্যিক রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রিসোর্টের মালিক বাশার মিয়া বলেন, “আমি প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নজরে আসার পর কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়ধুশিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতাকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাসে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং খাল দখলমুক্ত রাখতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “সরকারি জায়গায় ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ নেই। বড়ধুশিয়া এলাকায় সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অচিরেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি খাল ও জলাধার রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে জনস্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।