রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

মশার যন্ত্রণায় অ/তিষ্ঠ গোদাগাড়ী পৌরবাসী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ২৬ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে রাজশাহী গোদাগাড়ী পৌরসভার মানুষের জীবন যাপন। পৌর এলাকায় যেন রাজত্ব কায়েম করছে মশা।

সে সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোড শেডিং মশার অত্যাচারে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে ওঠছে জনজীবন। মশার উপদ্রব এতটায় বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সন্ধ্যায় বসতবাড়ির দরজা-জানালা খোলা যাচ্ছে না। সন্ধ্যায় কোনো স্থানে স্থির হয়ে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দিকে মশা আক্রমণে নামে।
মসজিদ, বাসা-বাড়ি, স্কুল-কলেজ, অফিস, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট সর্বত্র মশার যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পাচ্ছে না পৌরবাসী। শুধু সন্ধ্যা বা রাতে নয় বরং প্রতি মুহূর্তে চলছে, এদের অবিরাম অত্যাচার। কয়েল, মশক নিধন ব্যাট, স্প্রে ব্যবহার করেও মশার আক্রমণ থেকে শতভাগ মুক্তি মিলছে না।। পশ্চিম আকাশে সূর্য্য ডুবার সাথে সাথে মশা ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমন করে। মশা থেকে রক্ষা পাবার জন্য অনেকে মশরীর মধ্যে অবস্থান করতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীর প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী পৌরসভাবাসী নূন্যতম নাগরিক সুবিধা হতে বঞ্চিত। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গোদাগাড়ী পৌরবাসী চরম অসুবিধা, দুর্ভোগ আর যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছেন। আর এর প্রধান, প্রধান কারন বিভিন্ন সময়ে পৌর মেয়রেদের এমপির সাথে বিরোধ, ব্যপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করন, টেন্ডারবাজি করে সরকারী রাজস্ব লুটপাট করা আর উন্নায়ন বৈষম্য স্বীকার পৌরবাসীকে আশার আলো দেখাচ্ছেন বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানকারী ইসরাত জাহান।

সাবেক প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত ও ফয়সাল আহমদের নির্দেশনা পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা অব্যাহতভাবে চলছে। এধরনের কার্যক্রমে পৌরবাসী দারুন খুশি। পৌরকর্মকর্তা, কর্মচারীর দীর্ঘ ১৫ বছরের বকেয়া পরিশোধসহ নিয়মিত কর পরিশোধ করছেন পৌরবাসী।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের পাশে উন্মুক্ত ড্রেন, পৌর এলাকার যত্রতত্র বর্জ্য-আবর্জনা ফেলা এবং পরিকল্পিত ড্রনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। দিনের বেলায়ও অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা হচ্ছে না তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ দশমিক ২৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গোদাগাড়ী পৌরসভা। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ মানুষের বসবাস। পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের পাশে উন্মুক্ত ড্রেন। ময়লা-আবর্জনা পূর্ণ পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা। এতে করে গোদাগাড়ী পৌরসভা এখন যেন মশার স্বর্গরাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পৌরসভার প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ড্রেন লাইনের অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে ঢাকনা খোলা। এসব খোলা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলায়, তা পচে একদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, অন্য দিকে প্রজনন হচ্ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন জীবাণুবাহী মশার। আর এ মশার অত্যাচারে এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।
পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরকতৃপক্ষ খেয়ালখুশিমত পৌরকর বৃদ্ধি করেন। পৌরবাসী নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বছের পর বছর ধরে ।
নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও মশা ও কুকুর নিধনে কোন প্রকার কার্যকারী বাস্তবধর্মী পদক্ষেপনগ্রহন করেন নি।

এমন কি মশা নিধক স্প্রে ছিটানো হয় না। যত্রতত্র ফেলা ময়লা আবর্জনা ও ড্রেন পরিষ্কার করছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তি বেড়েছে তাদের। অনেক ড্রেনের সাথে বাসাবাড়ী, মসজিদের বাথরুম টয়লেটের সংযোগের কারণে দুগন্ধের সৃষ্টি হয়। মানুষের চলাচলের অসুবিধা হয়। মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পশের ড্রেনে টয়লেট বাথরুমের পানি ও মলের লাইন সংযোগ ছাত্রীর ক্লাসচলাকালীন সময়ে জানালা খুলতে পারে না।
পৌরসভার ২:নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, পৌরসভার ‘সাবেক মেয়র ইচ্ছামত পৌরকর বৃদ্ধি করেছিল আমরা সমিতি গঠন করে মাসের পর আন্দোলন করেছি। আদালতে মামলা করেছি। পরে পৌরকতৃপক্ষ কর কমানোর ফলে নিয়মিত কর পরিশোধ করচ্ছি। তিনি আরও জানান, মশা এতো বেশি, মশার জ্বালায় আমরা এখন অতিষ্ঠ। শুধু বাইরে নয়, এখন ঘরে থাকতেও আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।’

৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাদিকুল বলেন, ‘মশার জ্বালায় বসাই যায় না। যেখানেই যাই এতো মশা বেড়েছে এখুন থাকাটাই দায়। সে সা
অথচ এই বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজরই নেই। মশার কামড়ে অনেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

পৌর শহরের সুলতানগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা গোলাম রাবাবানী বলেন, ‘মশা অতিরিক্ত, বে-অরিশ কুকুর ও মশার জ্বালায় থাকাই যায় না। মশার কামড়ে সমস্ত শরীর ফুলে যায়।’
একই এলাকার বাসিন্দা মজি্ুবুর রহমান বলেন, ‘দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে শুতে হয়। মশার উপদ্রবে আমাদের জীবনযাত্রা এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রব বাড়লেও পৌর কর্তৃপক্ষ যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এই বিষয়ে এখনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, অথচ আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি।’

গোদাগাড়ী পৌরসভার সচিব ও প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকরী সারোয়ার জাহান মুকুলের সাথে যোগাযোগ করে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin