
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগের ঘটনায় এবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কনস্টেবল বাসুদেবকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওসি আজাদ রহমান ও কনস্টেবল বাসুদেবকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেয় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)।
বিষযটি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘ওসিসহ পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এডিশনাল কমিশনার নরেশ চাকমা প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল বুধবার রাতে রংপুর নগরীর কোতয়ালী থানায় মারধরের শিকার হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তার অভিযোগ, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের মধ্যে রাকিবুল ইসলামও ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলকে মারধর করতে দেখে রাকিব প্রতিবাদ জানান। এ সময় ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আহত অবস্থায় রাকিবকে দেখা যায়। তার শরীরে রক্তের দাগ এবং একটি চোখ ফুলে ছিল। খবর পেয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু থানায় যান। পরে আহত রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পুলিশের আচরণ পরিবর্তন হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। রাকিবুলের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।
মানববন্ধন স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়।
আরপিএমপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান ও এসি কোতয়ালী সুকুমার রায় সদস্য হিসেবে রয়েছেন।