রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা হেরো/ইনসহ ২ মাদ/ক ব্যবসায়ীকে আ/টক করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীতে দেওয়াল কেটে জুয়েলার্সে দু/র্ধর্ষ চু/রি: ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা লু/ট

‎পাইকগাছায় মধু বিক্রি করে চলে মৌয়াল বারিকের জীবনের চাকা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২২ Time View

‎ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, (খুলনা)।।

‎পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।
‎সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।
‎খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।
‎গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।
‎মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।
‎মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।
আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin