
হেলাল শেখঃ পাবনার বেড়া পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বেড়া থানার সম্ভুপুর ও হাতিগারা গ্রামের সীমানা সড়কের ডাকবাংলো ঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলো ঘাট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হাতিগারা গ্রামের জাহান খা, আলম হোসেন ও সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং প্রতিপক্ষ সম্ভুপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল রানা, আব্দুর রাজ্জাক ও নাসির উদ্দিন খাঁর নেতৃত্বে আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য কায়সার আলম মাসুদ গুরুতর আহত হন। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে বেড়া মডেল থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং র্যাবের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে সংঘর্ষে জড়িতদের ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হয়।
বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।