
এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ এই স্লোগানে পাবনার সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ১৯৮৬ সালের এসএসসি ব্যাচের পরীক্ষার্থী ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল লতিফ,১৯৮৬ সালের এসএসসি ব্যাচের পরীক্ষার্থী ও এন,এ কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখতারুজ্জামান জজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাজাহান আলী মন্ডল,শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তরিত কুমার কুন্ডু,সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক আসলাম উদ্দিন, সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন, সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন, প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক কমল কুমার সরকার, শফিউল আযম, মজিবর রহমান, হাতেম আলী, শহীদুর রহমান, লুৎফর রহমান রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, জয়নুল ইসলাম প্রমূখ।এদিকে পুনর্মিলনী উৎসবে এসব প্রাক্তনরা মেতে উঠেছিলেন আনন্দে, যেন তারা ফিরে গেছেন নিজেদের শৈশবে। পুরোনো বন্ধুদের এক সঙ্গে পেয়ে সব ক্লান্তি যেন দূর হয়ে গিয়েছিল। একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে তৈরি করেন বন্ধুত্বের নতুন দ্বার। করে রাখেন ক্যামেরাবন্দি।সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এন এ কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঈদ পূর্ণমিলনী আয়োজক কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা শৈশব-কৈশোরের খেঁাজে এখানে ছুটে এসেছি, স্বপ্নের দুয়ারে, স্মৃতির আঙিনায়। বহুদিন পর স্কুলবন্ধুদের একত্রিত করতে পারলাম। নানা ব্যস্ততায় অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিলনা। পরে বন্ধুদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিই, আর সেই ভাবনা বাস্তবায়ন করতেই এই মিলনমেলা।সত্যিই দারুণ একটা দিন কাটিয়েছি।১৯৮৬ এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আব্দুল লতিফস্মৃতিচারণ করে তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই মিলন মেলা আমাদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ ঢাকা, কেউ চট্টগ্রাম, কেউবা আরও দূরদূরান্তের জেলায়। জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালেভদ্রে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম এবারে সবাই একত্রিত হতে।সবাইকে দীর্ঘ ৪০ বছর পর পেয়ে অসাধারণ এক সময় উপভোগ করছি। ‘কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না, হারিয়ে যাবার নয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে আমরা হয়তো ব্যস্ত থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে যায় না, অমলিন হয়ে থাকে স্মৃতিপটে। এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের মতো কখনও স্মৃতিময় হয় না। প্রকৃত বন্ধুই হলো স্কুল জীবনের খেলার সাথীরাই। তারাই প্রকৃত বন্ধু। এ কারণেই আমরা সবাই মিলে চেয়েছিলাম এমন একটা আয়োজন করতে যেখানে সবাই একসঙ্গে দীর্ঘ ৪০ টি বছর পর একত্রিত হতে পারবো। এটি আমাদেরকে ছোটবেলা, স্কুলজীবনকে ফিরিয়ে দিয়েছে।