
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার ।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সড়কের ওপর খড় শুকানোর কারণে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ঘটনার পর মেইন সড়কে খড়-ধান শুকানো বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা
প্রতিনিধি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু, দৈনিক নতুন বাজার, জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার জানান, সোমবার ১ জুন বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খড়িকাটা খারিতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালাই উপজেলার সড়াইল খন্দকারপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার, ২৯। একই উপজেলার হারুঞ্জ গ্রামের শামছুলের ছেলে ফেরদৌস হোসেন, ১৩।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুক্তারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইমন খন্দকার স্ত্রী সুরাইয়া ও শ্যালক ফেরদৌসকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পাঁচবিবি উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। খড়িকাটা খারিতা এলাকায় সড়কের ওপর শুকাতে দেয়া খড়ের কারণে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। একই সময় চানপাড়া দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি পিকআপভ্যান মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
ঘটনাস্থলেই ইমন খন্দকার মারা যান। গুরুতর আহত ফেরদৌস হোসেনকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুরাইয়া কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা সড়কের ওপর ধান, খড় ও অন্যান্য কৃষিপণ্য শুকাচ্ছেন। এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
তাদের দাবি, প্রধান সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় খড়-ধান শুকানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। এলাকাবাসী বলেন, আজ দুটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। এই মৃত্যুর দায় কে নেবে? বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি ঘটবে।
সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জরুরি বলে মনে করেন তারা। সড়ককে কৃষিপণ্য শুকানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বারবার ঘটবে।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা: সড়কে খড় নয়, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হোক।