
আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন-কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। কৃষকের মর্যাদাকে আরো মহিমান্বিত করতেই কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সারের অপচয় কমবে, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত হবে এবং কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (১২মে) সদর উপজেলার অষ্টধর ইউনিয়নে
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ময়মনসিংহে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত পরিচিতি, উৎপাদন কলাকৌশল ও শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ক কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং বিনা ধান-২৫ এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস উপলক্ষে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বিনার মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সালমা আক্তার, বিনা বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের কৃষক প্রতিনিধি একেএম আনিসুজ্জামান, বিনার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল ও বিনার এসআরএবি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে। আমাদের কৃষি জমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে।
অনুষ্ঠানে বিনার কর্মকর্তারা জানান, দেশে চাহিদা অনুসারে লম্বা ও চিকন প্রিমিয়াম কোয়ালিটি চাল অপ্রতুল থাকায় মোটা ও মাঝারি চালবিশিষ্ট ধানের জাতের চাল পলিশ করে মিনিকেট, পাজাম, নাজিরশাইল, জিরাশাইল ইত্যাদি নামে বাজারজাত করা হয়। ফলে প্রতি টন চালে ১০ কেজি করে চাল নষ্ট হচ্ছে এবং চালের ভিটামিন ‘বি’, প্রোটিন, ফাইবার, জিংক, আয়রন ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। পাশাপাশি পলিশ করা চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। এসব সমস্যা দূর করতে বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ গবেষণার মাধ্যমে প্রিমিয়াম কোয়ালিটি চালবিশিষ্ট বিনা ধান-২৫ জাতটি উদ্ভাবন করেছে। বিনা ধান-২৫ এর চাল প্রিমিয়াম কোয়ালিটির হওয়ায় পলিশ করার প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া এ জাতটি চিকন চালের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবা একজন প্রকৃত কৃষক ছিলেন। তাই কৃষকের সুখ-দুঃখ আমি বুঝি। আমি আপনাদের হৃদয়ের টানে এখানে এসেছি। আমি কৃষকের সন্তান, এটাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। কৃষকের জীবিকা আরও উন্নত করার জন্য বিনা কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া, তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং এ জন্য কৃষকদের প্রণোদনাসহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথার মূল্যায়ন করার জন্য আমরা এই কাজগুলোকে উন্নতভাবে ত্বরান্বিত করতে চাই।”
বিনা ধান-২৫ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ধানটি অত্যন্ত ভালো মানের ধান। এটি রপ্তানি করার মতো একটি যোগ্য ধান। এই ধানটি খুব স্বাস্থ্যসম্মত এবং সুস্বাদু হবে। কৃষকরা এই ধান চাষ করলে অধিক ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। কৃষকের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”