রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
বানারীপাড়ায় কার্যক্রম নি-ষিদ্ধ ৪০ আ.লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মা/মলা – গ্রেফতার ১ জন ফুলবাড়ী উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে সিন্ডিকেট চ/ক্র গোদাগাড়ীতে অবৈ/ধভাবে মাটি কাটার দায়ে ১ লক্ষ টাকা জ/রিমানা টুঙ্গিপাড়ায় প্রতি/পক্ষের বিরুদ্ধে জো/রপূর্বক জমি দখ/ল চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বিএফআরআই লোনাপানি কেন্দ্রের বার্ষিক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে আব্দুল আজিজ মাষ্টার স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রথম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শন: দখলমুক্ত হবে সব খাল – ডিসি মোঃ আরিফ- উজ-জামান গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোকতার হোসাইনের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীর বোয়ালা বিল ও দমদমা খাড়ি প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উড়াল সড়কের নিচে ছোট পাইপ বিত/র্ক

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ১২১ Time View

হেলাল শেখঃ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ‘ছোট পাইপ বিতর্ক: জলাবদ্ধতা নিরসনে দায়সারা কাজের অভিযোগ, প্রশ্নে প্রকল্প তদারকি

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ঘিরে নতুন করে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে। উড়াল সড়কের নিচ দিয়ে ছোট আকারের পাইপ স্থাপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে অস্থায়ী সমাধানের নামে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও তুলছেন স্থানীয়রা। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৯ মে ২০২৬) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচ দিয়ে কয়েকটি ছোট আকারের পাইপ বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী, শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এর পরপরই সংশ্লিষ্টরা দ্রুততার সঙ্গে কিছু ছোট পাইপ বড় ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেভাবে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং এতে সাময়িকভাবে পানি নামলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী বড় আকারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে সংকীর্ণ পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই আশুলিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়তে শুরু করে। আগে যেখানে ভারী বৃষ্টির পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেমে যেত, এখন সেখানে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। এতে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার বড় ড্রেন বা স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চেয়েছি। কিন্তু এখন যে ছোট পাইপ বসানো হচ্ছে, তা দিয়ে সামান্য বৃষ্টির পানি নামলেও ভারী বর্ষণে পুরো এলাকা ডুবে যাবে।”

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, “প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে। রাস্তা কাটা, মাটি ভরাট আর ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এখন আবার ছোট পাইপ বসিয়ে বলা হচ্ছে সমস্যার সমাধান হবে। এতে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ তৈরি হতে পারে।”

তথ্য বলছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করার অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ঘিরে শুরু থেকেই ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণমান, ক্ষতিপূরণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্বাভাবিক খাল ও ড্রেনেজ লাইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি এলাকাবাসীর আন্দোলনের পর আপাতত কিছু পাইপ বড় ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলেও নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে এগুলোর মুখ আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অস্থায়ী ব্যবস্থা মূল সমস্যার সমাধান করবে না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে কেন স্থায়ী ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হলো না। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ছোট পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নেতা দাবি করেন, তারা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এলাকার পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে গেছে।

একজন শ্রমিক সংগঠনের নেতা বলেন, “মানববন্ধন না করলে হয়তো এই পাইপও বসানো হতো না। কিন্তু এখন যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট নয়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।”

প্রশ্ন উঠছে, এত বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ড্রেনেজ পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যেকোনো এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উড়াল সড়কের পিলার, মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

একজন নগর বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঢাকার আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন বড় নগর সংকটে পরিণত হয়েছে। সেখানে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ড্রেনেজ ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরিকল্পনা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ছোট পাইপ বসিয়ে সাময়িক পানি সরানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর হবে না। বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।”

অভিযোগ উঠছে, প্রকল্প ঘিরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থায়ী অবকাঠামোর পরিবর্তে কম ব্যয় দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হলে এতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ থাকে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। ফলে স্থানীয়দের অভিযোগ ও আশঙ্কার বিষয়ে সরকারি অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বড় সড়ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি উপেক্ষিত হলে এর প্রভাব স্থানীয় জনগণের ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়ে।

তারা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় জনগণের মতামত, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin