
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক দাম না পেয়ে দারুন হতাশ। কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় মোট ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর।
উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯২ হেক্টর, তানোরে ১২ হাজার ২৫৫ হেক্টর, বাগমারায় ৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৪ হাজার ৪৯৫ হেক্টর, পবায় ৩ হাজার ৪১০ হেক্টর, বাঘায় ২ হাজার ৮৫৭ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৭৭০ হেক্টর, চারঘাটে ১৮০ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩৫ হেক্টর এবং মতিহারে ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার সাগুয়ান গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর আলু চাষে ভয়াবহ লোকসান হয়েছে। এবার আলুর নায্যমূল্য নেই। বাজরে ১২/১৫ টাকা কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে। জমিতে পাইকারী ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
একই মন্তব্য করেন গোদাগাড়ী পৌরসভার কৃষক শামসুল হক।
গোদাগাড়ীতে উৎপাদিত আলুর কদর ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে। এখানকার চাষিরা মূলত ডায়মন্ড, এস্টারিক্স (লাল আলু) এবং কার্ডিনাল জাতের আলু বেশি আবাদ করেছে । তবে অধিক ফলনের আশায় অনেকে বার্মা, গ্রানোলা ও কুপরিসুন্দরী জাতের আলুরও চাষ করেছেন। বাজারে আলুর দাম না থাকায় কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতেই খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সার (এমওপি, ডিএপি, টিএসপি), কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। অনেক চাষি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের মতে, এবার প্রতি বিঘায় ৯০ থেকে ১০০ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে । তবে শেষ মুহূর্তে আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কঅমকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ীর অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। বর্তমানে আলুর দাম কম। তবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত আলুর সঠিক বাজারমূল্য পেত তা হলে , এবারের আলু চাষ বরেন্দ্র জনপদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে পারতো।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।