শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
পানিতে ডু্বে ৫ শিশুর মৃ/ত্যুর হয়েছে- সকলের বয়স ৮- ১১ বছর চেক জালিয়াতির মা-মলা, ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রে-প্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্তঃসত্ত্বার সন্তান মা-রা যাওয়ার অভিযোগ মধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা উজিরপুরে ভিটেমাটি ও পারিবারিক কবরস্থান উচ্ছেদের হুম-কি প্রকৌশলীর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আপ্তাব নগরে ওসির নেতৃত্বে মাদক বিরোধী গণমিছিল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও ডিবির জালে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্র ও ভুয়া ডিবি সদস্য গ্রে-ফতার ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজির সাহিত্যের আলোয় নতুন পথচলা, দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ তেলীগ্রাম বাজারে সংঘ-টিত ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বুলবুল

ঘু-ষ ছাড়া ফাইল নড়ে না দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে, ভূমি কর্মকর্তার কাছে জি-ম্মি সেবাগ্রহীতারা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে সাধারণ মানুষ এখন চরম দিশেহারা। জমির খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে নামজারি পর্যন্ত প্রতিটি দাপ্তরিক কাজেই ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে নামজারি প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এই দপ্তরে দালালদের মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না। মূলত প্রতিটি ফাইলের ওপর দালালের সাথে চুক্তির বিশেষ ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ না থাকলে সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাতে আবেদনটি বাতিল করে দেন। এতে সাধারণ মানুষ যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে আবেদনের পর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবেদনের হার্ড কপির সাথে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন দালালের মাধ্যমে। নির্ধারিত দালাল না থাকলে ভূমি কর্মকর্তা সরাসরি আবেদনকারীর সাথে চুক্তিতে যান। চুক্তির পর ফাইলের ওপর বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হয়, যা দেখে পরবর্তী ধাপের কর্মকর্তারা ফাইলটি অগ্রসর করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট ষপিস টাইম শেষে বিশেষ চিহ্নযুক্ত ফাইলের হিসাব অনুযায়ী ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে খোদ ভূমি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নিজেই চুক্তিতে লিপ্ত হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যারা এই অনৈতিক চুক্তিতে রাজি হন না, তাদের আবেদনগুলো ত্রুটি দেখিয়ে নামঞ্জুর করে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এই দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা নামজারি করাতে ঘুষ দিতে হয়েছে ভূমি কর্মকর্তাকে। অভিযোগ রয়েছে, অফিস টাইমের পর নির্দিষ্ট দালালদের নিয়ে রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে এবং অফিসের লোকদের সঙ্গে ঘুষের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ না হয়ে সেবা নিতে গেলে সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমনকি চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে দীর্ঘদিনেও অফিসের টেবিল থেকে নড়ে না ফাইল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জনসাধারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী,জানান, “আমি জমির নামজারি করতে সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। টাকা না দিলে কোনো কাজ হয় না।” তার মতো আরও অনেকেই জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে-ঘুষের টাকা ছাড়া সেবাগ্রহীতারা আবেদনপত্র জমা দিলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি অফিস ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের বাহিরে গেলেই আবেদন বাতিল করাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অথচ নায়েবের চাহিদা মতো অতিরিক্ত টাকা দিলেই তারা অফিসের ভিতরে গেলেই চোখের পলকে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, প্রতিটি নাম জারী খারিজের নথি পিছে ২-৩হাজার টাকা নায়েবকে দিতে হয়,প্রতিটি মিস কেইস, ১৪৪সহ বিভিন্ন মামলার প্রতিবেদনে নায়েবকে দিতে হয় ৪-৫ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে- নায়েব শফিকুল ইসলাম খাজনার টাকা আদায়ে বেশী বেশী করে ছাড়লেও পরে তাকে টাকা দিলেই খাজনার পরিমাণ কমে যায়,এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা। ভূমি বিষয়ে কেউ নায়েবের সাথে কেহ পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করে তার সাথে ভূমি বিষয়ে ভালো মন্দ পরামর্শ করতে গেলে নায়েব শফিকুল ইসলাম তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র জানিয়েছে একটি মিউটেশনের সরকারি চার্জ ১১৭০ টাকা হলেও অভিযোগ উঠেছে দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিউটেশনে এসিল্যান্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিটি ৫হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন ভূমি কর্মকর্তা। কোনো মিউটেশন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকার কমে কাজ সম্পন্ন হয়না।

খোজ নিয়ে জানা গেছে- দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দিনের পর দিন অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে অনেককেই। জমির নামজারি, খতিয়ান দেখানো, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায়—প্রতিটি ধাপে টাকা না দিলে কাজ হয় না বলেও জানান তারা।

প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে নায়েব শফিকুল ইসলাম কথা নলার বিসয়ে কোন পাত্তাই দেননি। সাংবাদিক অফিসে যাওয়ায় যেন ভূমি কর্মকর্তার গাঁ জ্বালাপোড়া করছিলো এমনটা লক্ষ করা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin