বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

‎৬ বছরে শেষ হয়নি পাইকগাছা পৌর ভবনের নির্মাণকাজ ‎প্রায় দুই বছর ধরে লা/পাত্তা ঠিকাদার ‎

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৭৮ Time View

‎ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা) ।।

‎প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার চারতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন। কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি এর নির্মাণ কাজ। ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। পরে আরও ৫ মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা শেষ হয় ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পর দুই বছর ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে লাপাত্তা রয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।
‎পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকাদারের গাফিলতি ও পৌরসভার আর্থিক সংকটের কারণে ভবন নির্মাণের কাজ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এদিকে নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রায় তিন দশক ধরে পৌরসভার কার্যক্রম চলছে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জরাজীর্ণ ভবনে। এতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজ ও নাগরিক সেবা।
সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় পাইকগাছা পৌরসভা। তৎকালীন সদর গদাইপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ ও উপজেলা সদর নিয়ে গঠিত হয় জেলার প্রথম পৌরসভাটি। কার্যক্রম ভালো হওয়ায় পৌরসভাটি ধাপে ধাপে তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়।
পৌরসভার প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পর ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় তেমন অগ্রগতি হয়নি। বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পুরাতন ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে হচ্ছে সংকটাপন্ন পরিবেশে।

‎নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এজন্য পাইকগাছা-কয়রা সড়কের পূর্ব পাশে শিববাটী মৌজায় প্রায় এক একর জমি ক্রয় করা হয়। ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯ হাজার ৫৮৭ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে।
‎পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আহমদ জানান, ভবনের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ভবনের একটি তলা, প্লাস্টার, রুমের কাজ, গ্রিল, থাই গ্লাস, টাইলস, সেফটি ট্যাংক, পানি ও বিদ্যুৎ লাইন্সহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে ৪ থেকে ৫ বার চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ঠিকাদার জিয়াউল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ভবন না থাকায় জরাজীর্ণ ভবনে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন পৌর কর্মচারীরা। কম্পিউটার অপারেটর হযরত আলী জানান, ছোট ভবনে সবার একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।
‎পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার জানান, পৌরসভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিজস্ব ভবন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ছোট একটি ভবনে সাধারণ, হিসাব, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, আদায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও কনজারভেন্সি শাখার কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অফিসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
‎সাবেক প্যানেল মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম ইমাদুল হক বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও এখানে তেমন কোনো সুবিধা নেই। কাউন্সিলরদের বসার জায়গা পর্যন্ত নেই, এতে নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এ প্রতিনিধি কে জানান, আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগেই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ ছিল। প্রকল্পের অর্থর অর্ধেক মন্ত্রণালয় থেকে এবং বাকি অর্ধেক পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হওয়ার কথা। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পৌরসভার নিজস্ব অর্থের সংকট রয়েছে। তবে আমরা নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছি এবং ঠিকাদারকে কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎পৌর ভবন নির্মাণে অনিশ্চয়তা দূর করে দাপ্তরিক কাজ সহজ করা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin