বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল গত ১০ আগস্ট সকাল ১০ টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ ভাগ। শিক্ষাবোর্ড এর পাসের হারে তলানীiiতে অবস্থান করেছে গোদাগাড়ী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেক মেধাবী শিক্ষাথীরা জিপিএ-৫ বঞ্চিত হয়েছে। অনেকে পাস করতে পারেনি। মোটা দাগে এবছর এসএসসির ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। সেখানে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জিপিএ ৩.১৭ পেয়ে কৃতকার্য হয়ে প্রশাংসায় ভাসছেন মোঃ রায়হানুল ইসলাম। অনেক অভিভাবক, শিক্ষক তার উদাহরণ দিচ্ছেন, সে পারলে তোমরা পারবে না কেন?

যে যেখানে সুস্থ্য, সবল পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ফেল করেছে অনেকে । এবছর গোদাগাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৫৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৪৭ জন পাস করেছে এবং ১০ ফেল করেছে। জিপিএ -৫ পেয়েছে ৭ জন, পাসের হার ৮২ দশমিক ৪৬ ভাগ।

রাহানুল ইসলামের পিতা মোঃ শরিফুল ইসলাম উপজেলার মাহিশালবাড়ী বাজারে ডাচবাংলা এজেন্ট ব্যাংক ও রেলওয়ে বাজার এলাকার সনি টেলিকমের মালিক এবং মাতা একজন সফল গৃহনী। কোনো প্রতিবন্ধকতাই থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নযাত্রা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসায় একের পর এক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

বাড়ি থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ে যেতেও রাজশাহী – চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কটি পার হতে হয়েছে কারো না কারো সহযোগিতায়, বন্ধদের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। রাইহানুলকে কখনো বাবার সাথে কখনো মায়ের সাথে আবার , আবার কখনো বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ক্লাশ শেষে একইভাবে ফিরতে হয়েছে বাড়িতে।

বাবা ও মা বিভিন্ন সময় রাজশাহী সরকারী টিটি কলেজেসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষন নিয়ে, রাজশাহী ও ঢাকায় আদরের সন্তানের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তার ঢাকায় চিকিৎসা এখনও চলমান। সন্তান চোখে এখন ব্যারিষ্টার হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন শিক্ষক ও এলাকাবাসী উৎসাহ ও সহযোগিতা।

রাহানুল ইসলামের পিতা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, গত টেষ্ট পরীক্ষায় আমার ছেলে ভাল ফলাফল করেছিল তখন ওই স্কুলের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া তাকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে তাকে উৎসাহ না দিয়ে বলেছেন কার দেখে লিখেছিস বল? এত ভাল রেজাল্ট কিভাবে করলি বল? এসময় আমার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী চলে আসার সময় রাজশাহী – চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানগরী সড়কে মাহিশালবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামনে দুর্ঘটানা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যায়। এব্যপারে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিকট বিচারদাবী করেছিলাম। শুধু কি তাই শিক্ষক জিয়া আমার ছেলে প্রতিবন্ধী বলে কোন কোন সময় উপহাস করেছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন রায়হানুল ইসলাম কোন দিন এসএসসি পাস করতে পারবে না। এতে আমি ও আমার খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, পাবলিক পরীক্ষার ৩০ মিনিট বেশী সময় দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষক জিয়া আমার ছেলের সব সময় ক্ষতি তিনি যদি আ মার সাথে ভাল আচার করতো তবে ফলাফল আরও ভাল হতো।

রায়হানুল বলেন, জিয়া স্যার আমার সাথে প্রায় খারাপ আচারন করতেন। আমার সামনে কোন চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন তুই এসএসসি পাস ক রতে পারবি না। আমি পাস করেছি, এখন আর ওই কলেজে ভর্তি হবো না জিয়া স্যারের জন্য। শিশু শ্রেণিতে যখন পড়ি তখন থেকে আব্বু আমাকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। পরীক্ষার আগেই আব্বু আমাকে বিভিন্ন ব্যয়বহুল মেশিন কিনে দিয়েছেন, যেগুলোয় আমি ব্যাম্প করি। বাড়ীতে শিক্ষক রেখে পড়িয়েছেন। আমার দুহাতে সমস্যা, ডানহাতে বেশী সমস্যা আমি বামহাতে সাইড হয়ে কষ্ট করে লিখি।

গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আসরাফুজ্জামান মাসুম বলেন, রায়হানুল ইসলামের বাবা, মা শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবসহ সবাই অনেক আন্তরিক ছিলেন। সে ভাল ছাত্র। শারিরীক প্রতিবন্ধীর জন্য হাতের লেখা খুবই শ্লো। সব প্রশ্নের উত্তর আমার ১০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। মানবিক বিভাগের ৭ জন। কিন্তু প্রতিবন্ধি হয়েও মানবিক বিভাগ থেকে রায়হানুল পাস করেছে। আমরা গর্ববোধ করি। তার আরও একটু ফলাফল ভাল হতো। আইহাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অজ্ঞাতার করণে হয় নি। তাদেরকে বলা শর্তেও তার উত্তরপত্রটি আলাদা প্যাকেটে না পাঠিয়ে সবার সাথে পাঠিছেন। পরবর্তীতে সেটা সংশোধন করেছে। তাকে শ্রেণিক্ষে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক জিয়া তাকে অসহযোগিতা, কোন দিন এসএসসি পাস করবি না, টেষ্টে কার দেখে লিখেছিস এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এব্যপারে অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করেছি। ভবিষ্যতে রায়হানুল আরও অনেক ভালো করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

রায়হানুল এর বড় বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী তিনি বলেন, আমারা দু,ভাই ও এক বোন সে সবার ছোট, শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও সে পড়াশুনার প্রতি সে অত্যন্ত মনোযোগি। আমার বাবা, মা তার চিকিৎসার কোন কমতি করেন নি। এখনও ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভালবাসা পেলে সে অনেকদূরে এগিয়ে যেতে পারবে ইনশাল্লাহ। আমি আমার ভাইয়ের জন্য সবার নিকট দোয়া চাই।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধি আছে। এরা আল্লাহ প্রদত্ত সন্তান। তাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। প্রতিবন্ধিরা দেশ ও সমাজের বোঝা নয়। সবাইকে সহযৌগিতা করে এগিয়ে নিতে হবে তার এ সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের। ভবিষ্যতের সফলতা অর্জনে কোনো বাধাই থাকবে না। লিখিত আবেদন করলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমরা সহযোগিতা করব।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin