
কেএম শহীদুল সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জ ডলুরা জাহাঙ্গীর নগর ও হালুয়ার ঘাট এলাকায় রাতের আঁধারে ট্রাকযুগে ধোপাজানের বালি পাথর লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বালু ও পাথর লুটেরা। এমন খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ ( পিপিএম) এর নির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাথর ভর্তি ট্রলি ট্রাকসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায় রাতের আঁধারে ট্রাকের গর্জনে কেঁপে ওঠে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও ধোপাজান নদীর পাশে থাকা গ্রাম। দিনের আলো শেষ হতে না হতেই শুরু হয় অবৈধ বালি-পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। নদীর উভয় পাড়ে দুইটি বিজিবি ক্যাম্প থাকার পরও তাদের চোখের সামনে ট্রাকের পর ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে নদীর বালু ও পাথর।
ধোপাজান নদী বেশ কয়েক বছর ধরে ইজারা বিহীন রয়েছে। একসময় ধোপাজান চলতি নদী ছিল প্রাণবন্ত, স্থানীয় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। কিন্তু এখন নদীর বুক কেটে, পাড় ভেঙে বালি-পাথর তোলে নিয়ে যায় বালু খেকো চক্র। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে ভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি। একদিকে নদী হারাচ্ছে তার নাব্যতা, অন্যদিকে আশপাশের ফসলি জমিও পড়ছে ঝুঁকিতে ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিরাতে ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক বালু ও পাথর বহন করে নিয়ে যায় গভীর রাতে । ধোপাজান নদী থেকে অবৈধভাবে লুট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান থাকা সত্যেও এসব বালু চুরেরা থেমে নেই। আর এসব তথ্য যখনি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম জানতে পারেন তখনি শুরু হয় পুলিশের জোড়ালো অভিযান। তারই ধারাবাহিকতায় ২৪জুন রাত ১টার দিকে ওসি রতন সেনের নির্দেশনায় এসআই অভিজিৎ নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে বালু ভর্তি ট্রলি ট্রাকসহ ২জনকে আটক করেন।
এব্যপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন।
নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে— এই উপলব্ধি নিয়েই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, নইলে একদিন হয়তো মানচিত্রে ধোপাজান নামের নদীটি শুধু স্মৃতিতেই থাকবে। আমি আশাবাদী সকলের সহযোগিতায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ হবে। ইজারা বিহীন ধোপাজান নদীতে আমাদের পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। আজ দুইজনকে আটক করা হয়েছে, তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ##