
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের আশঙ্কা বাড়ায় হবিগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। গভীর রাতেও সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করছে বিজিবি সদস্যরা।
৫৫ বিজিবি সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে ব্যাটালিয়নের ১৬টি বিওপি। প্রতিটি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনার পাশাপাশি সন্দেহজনক চলাচলের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং চালানো হয়। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে পুশ-ইন বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি বা চলাচল সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিতে স্থানীয়দের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কার্যক্রমে গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল এলাকার ভ্যানচালক মজনু মিয়া বলেন, রাতে বিজিবির মাইকিংয়ে তারা আরও সতর্ক হয়েছেন এবং নিরাপদ বোধ করছেন। মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার চা বাগান কর্মী মোহন লাল বলেন, উঠান বৈঠকে বিজিবি সদস্যরা কীভাবে সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্ত করতে হয় তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ফলে স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, প্রচার ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।