
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় সাংবাদিকতার লেবাস ধারণ করে ধর্ষিতা এক যুবতী নারীর প্রাপ্য নগদ চার লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া নামে কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। সে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মৃত ইছকন্দর উল্লার ছেলে।
ধর্ষণের শিকার ঐ যুবতী নারীর আইনি লড়াই এবং সামাজিক আপোষের টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার। জানা যায়, গত ৬ জুলাই ২০২০ ইংরেজি তারিখে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাইলী বেগম নামে এক যুবতীকে অপহরণ করে জগন্নাথপুর বাজারের হোটেল সোহাগের ৩য় তলায় ৩০২ নং রুমে পাঁচ লম্পট মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ঐ নারী বাদী হয়ে পাঁচ ধর্ষককে আসামি করে গত ৯ জুলাই ২০২০ ইংরেজি তারিখে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৫ ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। ৬মাস পলাতক থাকার পর ৫জনের মধ্যে ৩জন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সেসময় তারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ ভুক্তভোগী ঐ যুবতী নারীর সাথে বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করার জন্য একটি মৌখিক চুক্তি করে ধর্ষণকারীরা।
চুক্তি অনুযায়ী ধর্ষণকারীদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ঐ নারীকে নগদ ৪ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ন্যায় বিচার পেতে বিশ্বাস করে আগেই কথিত এই সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লালের সাথে আলোচনা করেছিলেন ভুক্তভোগী ঐ নারী। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কথিত এই সাংবাদিক।
জানা যায়, আপোষের চার লাখ টাকা যখন ভুক্তভোগীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই চতুরতার আশ্রয় নেন এই কথিত সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল। তিনি ধর্ষণকারীদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা একসাথে আদায় করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে এই চার লাখ টাকা গ্রহণ করতে বাধা দেন এবং ৪ লাখ টাকা নিজের জিম্মায় নেন। সেই সাথে মামলা পরিচালনার নাম করে কৌশলে মামলার মূল নথিপত্র এবং ফটোকপিও নিজের দখলে নেন।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগী ঐ নারী আজ পর্যন্ত একটি টাকাও হাতে পান নি। উল্টো জহিরুল ইসলাম লাল তাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঐ নারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকতার আড়ালে।
জহিরুল ইসলাম লালের বিরুদ্ধে শুধু প্রতারণা নয়, বরং নারী ধর্ষণ, খুন, গুম, অসহায় দরিদ্র মানুষের জমি দখল এবং চাঁদাবাজির মতো অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ন্যায়বিচার না পেয়ে এবং অর্থ সংকটে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন ভুক্তভোগী লাইলী বেগম। এলাকার এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে বলেও জানা যায়।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এই নারী এবং দেশে অবস্থানরত তার স্বামী এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমানে ঐ পাঁচ ধর্ষণকারী পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী।
এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ঐ কথিত সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লালের জেনুইন Johirul Islam Lal নামক ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঐ প্রতিবেদককে অশ্লীল অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। যার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কথিত এই সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের সাথে এমন ন্যাক্কারজনক প্রতারণা করছে, তার মুখোশ উন্মোচন এখন সময়ের দাবি। জগন্নাথপুরের সচেতন সমাজ এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্ত ৫ ধর্ষণকারী
আনোয়ার, সালাউদ্দিন, সোহেল, অনিক, সেলন সহ কথিত সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।#