
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু,
স্টাফ রিপোর্টার ।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে। এমনকি একটি দাখিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
এসএসসিতে কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার খুবই কম
উপজেলার ১৮টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৮৪৫ জন। পাস করেছে ৪৬৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ জন। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের হিসাবে ফেল করেছে ৩৭৮ জন।
ফলাফলে পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—পৌলুঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫ জন। পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭ জন। ইটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। জিয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৩ জন। আটিদাশড়া মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ জন।
দাখিলেও হতাশাজনক ফল, একটি মাদ্রাসায় শূন্য পাস
উপজেলার ১৪টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় মোট ২৫২ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ২২৮ জন। পাস করেছে ১০৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
ফলাফলে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাপাশঠিকরি দাখিল মাদ্রাসায় ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করেনি। সড়াইল মোহাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন। ক্ষেতলাল খোশবদন গোলজারে-ই-উলুম আলিম মাদ্রাসায় ২৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮ জন। বুড়াইল দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসায় ২৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। লালাগড় দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭ জন এবং বিনাই দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭ জন।
কারিগরি শিক্ষাতেও হতাশাজনক ফল
উপজেলার ৫টি কারিগরি (ভোকেশনাল) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এর মধ্যে মামুদপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ জন। আখলাশ শিবপুর শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ জন।
এমন ফলাফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে কম পাসের হার থাকলে এর কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।