বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নার্সের দায়িত্ব অ/বহেলা, রোগীদের দু/র্ভোগ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ Time View

খলিলুর রহমান খলিল , নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ডিউটিরত নার্স ও আয়াদের দায়িত্বহীনতা, রোগীদের সঙ্গে অসংবেদনশীল আচরণ এবং রাত্রিকালীন ডিউটিতে ঘুমে মগ্ন থাকার ঘটনা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক আশঙ্কাজনক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ভুক্তভোগী এক নারী রোগী জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি গতকাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গভীর রাতে তার হাতে লাগানো ক্যানুলায় জটিলতা দেখা দিলে তীব্র যন্ত্রণায় তিনি সেবার জন্য ডাকাডাকি শুরু করেন। তবে সে সময় কর্তব্যরত কোনো নার্সই তার ডাকে সাড়া দেননি।
পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে ওই রোগী নিজেই খুলে নেওয়া স্যালাইন ও ক্যানুলা হাতে ঝুলিয়ে নার্সদের কক্ষের সামনে যান। দীর্ঘক্ষণ দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও কড়া নাড়ার পরও ভেতর থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী রোগী নিজের মোবাইলে বন্ধ দরজায় কড়া নাড়ার দৃশ্য ধারণ করেন। ঠিক একই সময়ে পুরুষ ওয়ার্ডের আরও কয়েকজন অসুস্থ রোগী সেবার আশায় সেখানে গেলেও তারাও কোনো সাড়া পাননি।

হাসপাতালে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের ঠিক মাঝখানে নার্সদের জন্য নির্ধারিত একটি ডিউটি রুম রয়েছে। যেখানে কর্তব্যরত নার্সদের বসার ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে ওই কক্ষের ভেতরেই পাওয়া যায় আরেকটি গোপন কক্ষের সন্ধান, যার ভেতরে পাতা রয়েছে দুটি বিছানা (বেড)। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গোপন কক্ষেই মূলত মধ্যরাতে দরজা বন্ধ করে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমে সময় কাটান দায়িত্বরত নার্সরা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নৈশকালীন ডিউটিতে আসা নার্স ও আয়াদের ঘুমানোর এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের। সামান্য চিকিৎসার প্রয়োজনে বা শারীরিক কষ্টের কথা বলতে গেলেই তারা রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন। অনেক সময় নার্সরা রোগীদের কটাক্ষ করে বলেন, “এতই যদি সমস্যা, তবে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হননি কেন?”

ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত এমন কটু কথা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে দায়িত্বজ্ঞানহীন এসব নার্স ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের ন্যূনতম আস্থাটুকুও বজায় থাকবে না।

অভিযোগের বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ জানান, “ডিউটিরত অবস্থায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নার্সদের ডিউটি রুমের ভেতরের গোপন কক্ষ ও বিছানার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে বা শারীরিক অসুস্থতায় সামান্য বিশ্রামের জন্য এটি ব্যবহার হতে পারে। তবে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমানোর বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin