
স্বাধীন চৌধুরী।।
ভাষার হয়তো জন্মদিন হয় না। কোনো জন্মসনদও নেই। মানুষের মুখে মুখে, প্রজন্মের পর প্রজন্মের ব্যবহার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভাষা ধীরে ধীরে নিজের স্বরূপ তৈরি করে। একসময় সেই কথ্য ভাষা সাহিত্য প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে। কিন্তু ভাষার প্রাথমিক ইতিহাসের অনেকটাই হারিয়ে যায়—পাণ্ডুলিপি নষ্ট হয়, গ্রন্থাগার বিলীন হয়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বদলে যায়। ফলে কোনো ভাষার শৈশব অনেক সময় তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছেই অচেনা হয়ে যায়।
বাংলা ভাষার ইতিহাসেও ছিল এমন এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। বাংলা যে বহু শতাব্দীর বিবর্তনের ফল, তা ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় স্পষ্ট; কিন্তু তার প্রাচীনতম লিখিত সাহিত্যের নিদর্শন কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। সেই অনিশ্চয়তার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। নেপালের রাজদরবারের সংগ্রহশালা থেকে তাঁর আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিটি পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসের ধারণাকেই বদলে দেয়। পাণ্ডুলিপিটির নাম—চর্যাচর্যবিনিশ্চয়। এর পদগুলো আজ পরিচিত চর্যাপদ নামে।
তবে এই আবিষ্কারের কাহিনি কোনো আকস্মিক ঘটনার গল্প নয়। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ অনুসন্ধান, একাধিকবার নেপালযাত্রা এবং বহু বছরের গবেষণা।
২.
উনিশ শতকের শেষভাগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে আধুনিক গবেষণার যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল, সেখানে একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল—বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোথায়?
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন সেই প্রশ্নের অন্যতম অনুসন্ধানী। প্রাচীন ভারতীয় পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ ও গবেষণার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলার বহু পুরোনো সাহিত্যিক নিদর্শন হয়তো বাংলার বাইরে কোথাও সংরক্ষিত থাকতে পারে।
নেপাল ছিল সেই সম্ভাব্য গন্তব্যের একটি। দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় বৌদ্ধ ও সংস্কৃত পাণ্ডুলিপির গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ সেখানে সংরক্ষিত ছিল। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনের নানা পর্যায়ে ভারতীয় উপমহাদেশের বহু পুঁথি তিব্বত ও নেপালে আশ্রয় পেয়েছিল।
এ সম্ভাবনা শাস্ত্রীকে নেপালের দিকে টেনে নেয়।
তিনি প্রথমবার নেপালে যান ১৮৯৭ সালে। পরের বছর, ১৮৯৮ সালে, তিনি সেখানে অনুসন্ধান চালান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পাণ্ডুলিপির সন্ধান তখনও মেলেনি।
গবেষকের ব্যর্থতা অনুসন্ধানের শেষ নয়; বরং তা আরও গভীরে যাওয়ার কারণ। শাস্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।
৩.
১৯০৭ সালে তৃতীয়বার নেপালে গিয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করছিলেন। সেখানেই তাঁর হাতে আসে একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’।
পাণ্ডুলিপির পদগুলোর ভাষা ছিল দুর্বোধ্য। সেটি সংস্কৃত নয়, আবার আধুনিক বাংলা বলেও চেনা যায় না। কিন্তু শব্দরূপ, ধ্বনি, ক্রিয়াপদ ও বাক্যগঠনের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল, যা পূর্বভারতের উদীয়মান ভাষাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বাংলা ভাষার সঙ্গে এর সম্পর্ক শাস্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
৪.
এখানেই আবিষ্কারের প্রকৃত গুরুত্ব। একটি পুরোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেলো—কিন্তু তার ভাষাগত পরিচয় নির্ধারণ, রচনার সময়কাল বোঝা এবং সাহিত্যিক তাৎপর্য প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন ছিল দীর্ঘ গবেষণা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সে কাজই শুরু করেন।
চর্যাপদ একক কোনো কবির রচনা নয়। এটি একাধিক সিদ্ধাচার্যের পদসংকলন। লুইপা, কাহ্নপা, শবরপা, ভুসুকুপা, সরহপা প্রমুখ সাধক-কবির নামের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক। তাঁদের সাধনাচিন্তায় মানুষের অন্তর্জগৎ, শরীর, চেতনা এবং মুক্তির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু তাঁদের কবিতা সরাসরি ধর্মীয় তত্ত্বের ভাষায় লেখা নয়। সাধারণ জীবন ও প্রকৃতির নানা উপাদান তাঁদের কবিতায় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নৌকা, নদী, ঘর, শিকার, মাছ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা দৃশ্যের আড়ালে প্রকাশ পেয়েছে সাধনার গূঢ় তত্ত্ব।
এই দ্ব্যর্থবোধক প্রকাশভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ধ্যাভাষা—এক ধরনের সাংকেতিক ভাষা, যেখানে প্রকাশ্য অর্থের পাশাপাশি নিহিত থাকে গুপ্ত অর্থ।
ফলে চর্যাপদ একই সঙ্গে সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
৫.
চর্যাপদের ভাষা আধুনিক বাংলা নয়। এটি বাংলা ভাষার বিকাশের প্রাচীন স্তরের নিদর্শন। সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ ও অবহট্টের দীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পূর্বভারতে যে নতুন ভাষাগুলোর বিকাশ ঘটছিল, চর্যার ভাষা সেই পরিবর্তনপর্বের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।
এর ভাষায় বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়াসহ পূর্বভারতের বিভিন্ন ভাষার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। তবে বাংলা ভাষার পরবর্তী বিকাশের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে চর্যাপদ বাংলা ভাষার ইতিহাসের মর্যাদা পেয়েছে।
শব্দরূপ, ক্রিয়াপদের ব্যবহার, ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য এবং বাক্যগঠনের নানা চিহ্নে প্রাচীন বাংলার বিকাশমান রূপ শনাক্ত করা যায়।
এ জন্যেই চর্যাপদকে সাধারণভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন বলা হয়।
৬.
চর্যাপদের গুরুত্ব শুধু ভাষাতাত্ত্বিক নয়। এর পদগুলোতে যে জীবনচিত্র ছড়িয়ে আছে, তা মধ্যযুগের পূর্বভারতের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
নদী ও নৌকা, জীবিকা, কৃষি, শিকার, ঘরসংসার, নারী-পুরুষের সম্পর্ক—এসবের প্রত্যক্ষ বা সাংকেতিক উপস্থিতি প্রমাণ করে, চর্যার কবিরা তাঁদের সময়ের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তাঁদের সাধনা ও কাব্যের ভাষা গড়ে উঠেছিল সেই বাস্তব জীবনকে কেন্দ্র করেই।
এখানে চর্যাপদের বিশেষ সাহিত্য শক্তি রয়েছে। একদিকে গূঢ় সাধনাতত্ত্বের ভাষা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পরিচিত জীবনজগতের উপমায় নির্মিত কবিতা।
অর্থাৎ চর্যাপদ আমাদের জানান দেয়—সেই সময়ের মানুষ কী ভাষায় কথা বলতো এবং আমাদের ভাবতে সাহায্য করে—তারা পৃথিবীকে কীভাবে দেখতো। তাই। চর্যাপদ শুধুমাত্র ভাষা নয়, একটি সমাজের দলিল।
৭.
১৯০৭ সালে পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের পর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে এর পাঠ ও ভাষা নিয়ে গবেষণা করেন। এই কাজের ফল হিসেবে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’।
এই প্রকাশনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।
কারণ এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম স্তরের একটি সুসংবদ্ধ সাহিত্য নিদর্শন বৃহত্তর পাঠক ও গবেষকসমাজের সামনে আসে।
বাংলা ভাষার ইতিহাস তখন আর কেবল অনুমান বা বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর নির্ভরশীল রইলো না। একটি লিখিত সাহিত্যের নিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে উঠলো।
৮.
চর্যাপদ আবিষ্কারের বিস্ময়কর দিকের একটি হলো—বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শনের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেল বাংলার বাইরে, নেপালে। এর ভেতরে ইতিহাসের গভীর এক পরিহাস লুকিয়ে আছে।
যে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিসরে এই পদগুলোর জন্ম, সময়ের প্রবাহে সেখান থেকেই এগুলোর স্মৃতি অনেকটা হারিয়ে যায়। অথচ অন্য ভূখণ্ডের পাণ্ডুলিপি-সংগ্রহে সেগুলো টিকে থাকে।
এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি— সভ্যতার স্মৃতি শুধু তার নিজের ভূখণ্ডে সংরক্ষিত থাকে না, ইতিহাসের যাত্রাপথে গ্রন্থ, মানুষ ও সংস্কৃতি এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে চলে যায়। কখনও সেই দূরবর্তী আশ্রয়ই হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের নিরাপদ ভাণ্ডার।
৯.
চর্যাপদের ক্ষেত্রে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কৃতিত্ব শুধু ‘আবিষ্কার’ শব্দে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রথম কৃতিত্ব অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি—প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের সন্ধান বাংলার বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।
দ্বিতীয়ত, দুর্বোধ্য পাণ্ডুলিপির ভাষা বিশ্লেষণ করে তার ঐতিহাসিক অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ গবেষণার ফলকে প্রকাশিত গ্রন্থের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের সামনে নিয়ে আসা।
অর্থাৎ তিনি শুধু একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাননি; তিনি একটি পাণ্ডুলিপিকে ইতিহাসের দলিলে পরিণত করেছিলেন। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কোনো প্রাচীন বস্তু আবিষ্কার করা এক ধরনের কাজ; তার অর্থ ও তাৎপর্য উদ্ধার করা সম্পূর্ণ অন্যরকম এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
১০.
আজকের বাংলা ভাষা চর্যাপদের ভাষায় নেই। এক হাজার বছর ধরে বাংলা বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। শব্দ বদলেছে, উচ্চারণ বদলেছে, ব্যাকরণ বদলেছে, সাহিত্য রীতিও বদলেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ধারাটি বোঝার জন্য চর্যাপদ অনিবার্য সূচক।
চর্যাপদের মাধ্যমে আমরা দেখেছি, একটি ভাষা কীভাবে পুরোনো ভাষিক স্তর থেকে ধীরে ধীরে স্বাতন্ত্র্য অর্জন করে।
আর সাহিত্যের দিক থেকে দেখেছি—বাংলা ভাষার সাহিত্যের সম্ভাবনা তার পরিণত রূপ লাভের বহু আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।
এ জন্যেই চর্যাপদকে শুধু ‘প্রাচীনতম সাহিত্য’ হিসেবে দেখলে তার গুরুত্ব যথার্থ নয়। এ হচ্ছে, আসলে ভাষার বিবর্তন, সমাজের জীবন এবং মানুষের অন্তর্জগত—এই তিনের সম্মিলিত দলিল।
১১.
হাজার বছর আগের একজন কবি যখন নদী, নৌকা, ঘর কিংবা মানুষের সম্পর্কের কথা লিখেছিলেন, তখন কি তিনি জানতেন তাঁর ভাষা একদিন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে?
সম্ভবত না।
একজন কবি সময়ের প্রয়োজনে কবিতা লেখেন । তিনি তাঁর সময়ের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের অনুভব, বিশ্বাস ও জীবনকে ভাষায় ধরে রাখেন।
কিন্তু সমৃদ্ধ সাহিত্য সময়ের সীমানা অতিক্রম করে। চর্যাপদও করেছে।
সে জন্যেই নেপালের প্রাচীন পুঁথিঘর থেকে উদ্ধার হওয়া পদগুলো থেকে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—মানুষ কে? জীবনের অর্থ কী? শরীর ও আত্মার সম্পর্ক কোথায়? মুক্তি কোথায়? আর ভাষা কীভাবে মানুষের অস্তিত্বের সাক্ষ্য হয়ে থাকে?
প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বদলেছে। কিন্তু প্রশ্নগুলো বদলায়নি।
১২.
চর্যাপদ আবিষ্কারের কাহিনী শুধুমাত্র পুরোনো পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের ঘটনা নয়। যা বাঙালির ভাষিক আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। বাংলার হারানো শৈশব।
১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালের নেপালযাত্রায় যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল, ১৯০৭ সালে তা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে পৌঁছায়। তারপর দীর্ঘ গবেষণা এবং ১৯১৬ সালের প্রকাশনার মাধ্যমে সেই আবিষ্কার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নেয়।
নেপালের রাজদরবারের পুঁথিঘরে হয়তো তখন কয়েকটি পুরোনো পাতা নীরবে পড়ে ছিল।
কিন্তু পাতাগুলোর নীরবতার মধ্যে ঘুমিয়েছিল একটি ভাষার দীর্ঘ ইতিহাস।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সেই নীরবতা শুনতে পেয়েছিলেন।
তিনি দেখেছিলেন—পুরোনো অক্ষরের আড়ালে শুধু কয়েকজন সাধক-কবির পদ নয়; সেখানে আছে এক ভাষা-জন্মের পদচিহ্ন, এক সমাজের স্মৃতি এবং মানুষের অন্তহীন আত্ম-অনুসন্ধানের ইতিহাস।
চর্যাপদকে আমরা যতই পড়ি, ততই বুঝি—ভাষা কেবল শব্দের সমষ্টি নয়। ভাষা মানুষের সময়কে বহন করে চলে।
মানুষ হারিয়ে যায়, রাজ্য হারিয়ে যায়, ধর্মের কেন্দ্র বদলে যায়, পুঁথি দূরদেশে চলে যায়—তবুও কোনো কোনো শব্দবন্ধ সময়ের অন্ধকার ভেদ করে ফিরে আসে। চর্যাপদ তেমনই এক প্রত্যাবর্তনের নাম।
নেপালের পুঁথিঘর থেকে ফিরে আসা প্রাচীনকণ্ঠ আমাদের জানান দিয়েছে—বাংলা ভাষার শৈশবের ইতিহাস।
লেখকঃ কবি, গবেষক ও সাংবাদিক।
মুখ্য সমন্বয়ক- ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব।