
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
আদালতের রায় পক্ষে এসেছে, এমনকি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে সরকারিভাবে জমিও বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছে না রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি অসহায় পরিবার। উল্টো স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের রোষানলে পড়ে দেড় ডজন (১৮টি) মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
সম্প্রতি পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল, গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রভাবশালী চক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন আক্তার। তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খোর্দ বেলাইচন্ডি ভীমপুর সরদারপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল জব্বারের মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওয়ারিশদের ১ একর ৬৮ শতক পৈতৃক জমি নিয়ে স্থানীয় একটি দখলবাজ ও মামলাবাজ চক্রের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিচার-শালিস হলেও আমরা কোনো সঠিক বিচার পাইনি। বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালে জমি উদ্ধারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (মামলা নং- ১০৫) দায়ের করি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২২ সালে আদালত আমাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেন।”
তিনি আরও জানান, আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিপক্ষরা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৩ সালে তিনি সরকারিভাবে জমি দখল বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য কমিশনে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে আইনানুগভাবে জমিটি তাদের বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সরকারিভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের জুলুম থামেনি। তারা আইন অমান্য করে জোরপূর্বক পুনরায় জমিটি দখল করে নেয়।
ভুক্তভোগী জেসমিনের অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে আইনি লড়াইয়ে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত দেখে প্রতিপক্ষ তাদের দমাতে একের পর এক গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিতে শুরু করে। বর্তমানে তাদের পরিবারের ৬ জন সদস্যের নামে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি (দেড় ডজন)। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মশিয়ার রহমান কালুয়ার নেতৃত্বে এই জুলুম-নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
জেসমিনের দাবি, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই প্রভাবশালী নেতা তাদের নামে থাকা সরকারিভাবে খারিজকৃত (মিউটেশন) জমি নিজেদের লোকজনের নামে করিয়ে নিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জেসমিন আক্তার বলেন, “সরকারি একাধিক দপ্তরে সুবিচারের জন্য আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কর্মকর্তারা আমাদের কাগজপত্র সঠিক বললেও প্রতিপক্ষের অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারছেন না। মাসের অধিকাংশ দিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে আমাদের পরিবার আজ নিঃস্ব ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।”
এ অবস্থায় মিথ্যা ও গায়েবি ১৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি, আদালতের রায় অনুযায়ী পৈতৃক জমির স্থায়ী দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটি।