
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামে ধানক্ষেতের পাশ থেকে জান্নাতুত তাজমীন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ওই অটোরিকশার সঙ্গে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত জান্নাতুত তাজমীন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা আব্দুল আলীম রেনাটা পিএলসি, কুমিল্লায় আরএসএম হিসেবে কর্মরত এবং মা কেয়া আক্তার। পরিবারটি বর্তমানে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করছে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় জান্নাতুত তাজমীন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
নিহতের বাবা আব্দুল আলীমের দাবি, নিখোঁজের পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটের দিকে তার মেয়ের মোবাইল ফোন থেকে তার কাছে একটি লাইভ কল আসে। ওই সময় জান্নাতুত তাজমীন নিজেকে আটক অবস্থায় থাকার কথা জানিয়ে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে সে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বলে জানান তার বাবা।
এরপর বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় ধানক্ষেতের পাশ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা লালমাই থানায় গিয়ে মরদেহটি জান্নাতুত তাজমীনের বলে শনাক্ত করেন।
শেষ ফোনকল ও সিএনজি ঘিরে প্রশ্ন
মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এখন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত স্কুলছাত্রীর চলাফেরা, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও অবস্থান এবং সর্বশেষ যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে যে ফোনকলের কথা পরিবার জানিয়েছে, সেটি সত্যিই জান্নাতুত তাজমীনের মোবাইল থেকে করা হয়েছিল কি না এবং ওই সময় মোবাইল ফোনটির অবস্থান কোথায় ছিল—প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা গেলে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এ ছাড়া ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া সিএনজির মালিক ও চালকের পরিচয় এবং অটোরিকশাটি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে এমন মন্তব্য করেন পুলিশ ।