
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাহিন মুন্না খোকা পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে ‘রাজু’ নামের এক ব্যক্তিকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাসে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে বিকাশের মাধ্যমে রাজু নামের ওই ব্যক্তিকে ৭ হাজার টাকা দেন তিনি। টাকা দেওয়ার পর পরদিন পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয় বলে জানান সাহিন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তিনি পাসপোর্ট অফিসের সামনে গিয়ে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে নিজের মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করলেও রাজু ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করলে রাজু কল রিসিভ করেন বলে দাবি করেন সাহিন। তবে সাহিন মুন্না খোকা নিজের পরিচয় দেওয়ার পরপরই কল কেটে দেওয়া হয়। এরপর ওই নম্বর থেকেও আর ফোন রিসিভ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।সাহিন মুন্না খোকার অভিযোগ, পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার পর থেকে রাজু তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চেয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি।সাহিন মুন্না খোকা বলেন, “আমার অনেক কষ্টের টাকা তাকে দিয়েছিলাম। আমার নামে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল। সেই আশায় তাকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হয়নি। এখন ফোন করলেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন,পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, রাজুর বাড়ি নওগাঁর আত্রাই এলাকায়। রাজুর বিরুদ্ধে নেশা ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও স্থানীয়ভাবে শুনেছেন বলে দাবি করেন সাহিন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে দালালদের সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাহিন মুন্না খোকা।তিনি বলেন, “পাসপোর্ট করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কারও ব্যক্তিগত সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে প্রতারণা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের দালালদের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন।”তিনি পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি সম্পর্কে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি অফিসের আশপাশে অননুমোদিতভাবে সেবার নামে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।ঘটনার বিষয়ে মোঃ সাহিন মুন্না খোকা তার ৭ হাজার টাকা ফেরত, অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে অন্য কেউ একই ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা সমীচীন নয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ‘রাজু’র বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।