শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ধানক্ষেত থেকে লালমাইয়ে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে সিএনজি ক্ষেতলালে আরএম স্যাটেলাইট ডিস ব্যবসার বিরোধ আপস-মীমাংসায় নিষ্পত্তি মহেশপুরে আ-কস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ড-ভণ্ড সবজি, ধান ও কলাবাগান, নিমিষেই শেষ কৃষকের স্বপ্ন নেছারাবাদে মি-থ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও নদীতে বন্যার পানিবৃদ্ধির সাথে সাথে ফের নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আত-ঙ্কিত জি-নাইন কলা চাষে সফল পাইকগাছার নারায়ণ অধিকারী রাজশাহী ১ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান অ-সুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইদিন ব্যাপী শিখন কর্মসূচির সমাপনী পঞ্চগড়ে কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় ২৪ ঘন্টায় পৃথক স্থান থেকে তিন নারী ও পুরুষসহ ৪ জনের লা-শ উদ্ধার

গোদাগাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলী করা হয়েছে।

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে উৎকোচ, ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন করেও বদলির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগের ভাষায় বলেন, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী উপজেলার ভেতরে ২৫ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানা বদলি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃ উপজেলা বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী শিক্ষকদের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হলে প্রায় ১০৭ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৫ জনের বদলি হয়।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের তালিকা পর্যালোচনা করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষককে রেখে তুলনামূলকভাবে নবীন কয়েকজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষকসংকটের বিদ্যালয় থেকেও বদলি
পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা সহকারী শিক্ষক মমিনুল ইসলামকে সহড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বদলির সুযোগ পেয়েছেন। তবে মমিনুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে বলেন, নদী পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা তাঁর জন্য কষ্টকর ছিল। এ কারণে বদলির আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেন, “রোজ রোজ নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়া কষ্টের ছিল। এ জন্য বদলির আবেদন করেছিলাম। এখন এ পারে সড়কের পাশের একটা স্কুলে আসতে পেরেছি।”
তাঁর বদলির পর বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আরেকটা নিয়ম আছে, ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকলেই হবে।”

তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৭০ জন। চারজন শিক্ষক থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে ৪২ দশমিক ৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের শর্ত কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলির অভিযোগ
বদলির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও তালিকায় কয়েকজন অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী শিক্ষকরা।

বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের একজনের দাবি, “৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের বদলি হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতা উৎকোচের বদলির বিষয়ে তদবিরে সমন্বয় করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

২০১৩ সালে যোগদান করা মাছমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসিমা খাতুনকে বিজয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়া চর হনুমন্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলিমুজ্জামানকে ঘিয়াপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ পাওয়া সরদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেরিনা খাতুনকে ঈদলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বদলির আবেদন করেও সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, “জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষক বদলির আবেদন করেছিলেন। তাঁদের রেখে নতুন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।”
৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
বদলিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বদলি কমিটির সদস্যসচিব মুনমুন সুলতানা বলেন, “বদলি তো আমি একা করিনি। একটা নির্দিষ্ট কমিটি আছে। আমি আমার কথা বলতে পারি, অন্যের কথা বলতে পারি না। আমি আমারটুকু ক্লিয়ার, এটা বলতে পারি।”

বদলি কমিটির আহ্বায়ক ও গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের জানান, বদলী স্বচ্ছ হয়েছে। কোন জায়গায় যদি কেউ যেতে না চাই আর সেখানে যদি নবীন কেউ চাই তাকে তো দেওয়া যেতেই পারে। বদলীর জন্য যারা উৎকেচ দিয়েছেন তাদের বদলী হয় নি। যাদের টাকা দিয়েছেন তাদের সাথে বুঝাপড়া করুক।
শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ, বদলির তালিকা তৈরির মানদণ্ড এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। উল্লেখ্য গোদাগাড়ীর সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা রাখি চক্রবর্তী ব্যাপক, অনিয়ম, দূর্ণীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোদাগাড়ীতে থেকে গ্রেফতার, জেল হাজতে গেছেন এবং চাকুরীচ্যুত হয়েছে।

শিক্ষার গুনগত মান ঠিকরাখার জন্য, ভুক্তভোগি, সচেতনমহল, সরজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব, মহাপরিচলকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin