
স্টাফ রিপোর্টার।।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারের জমি জবরদখল ও ভুয়া দলিল তৈরি করে ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে) সকাল ১১টায়
ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার ৬নং ভালুকা ইউনিয়নের বাশিল গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে অসহায় আঃ মান্নান, জাকির হোসেন, সাকির হোসেন ও আলম হোসেন এবং ছফির উদ্দিনের নাতি ওয়াহাব মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তারা এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে তাদের পৈত্রিক জমি জবরদখল করা এবং ভুয়া দলিল বানিয়ে তা ব্যাংকে বন্ধক রেখে শত কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার এস এ ২০নং খতিয়ানের মালিক ছিলেন তাদের দাদা মৃত মদন শেখ। মদন শেখের মৃত্যুর পর ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নং বি.আর.এস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়। যেখানে ৮টি দাগে মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি লিপিবদ্ধ হয়। ছফির উদ্দিন মৃত্যুকালে ২ স্ত্রী, ৬ পুত্র এবং ৪ কন্যাসহ মোট ১২ জন ওয়ারিশ রেখে যান।
সম্মেলনে তারা দাবী করেন, জন্মের পর থেকেই তারা উক্ত জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। সর্বশেষ ছফির উদ্দিনের নামে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৩৩৯ খতিয়ানের ২ একর ১৯ শতাংশ জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গত ৮ আগষ্ট হঠাৎ দেখতে পান স্যুট-টাই পরিহিত একদল লোক জমি পরিদর্শন করছেন। জানতে চাইলে পরিদর্শনকারীরা তাদেরকে প্রিমিয়ার ব্যাংক, বনানী শাখার অফিসার বলে পরিচয় দেন। তারা জানান, এই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু শত কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেছেন। পরে তারা (ওয়ারিশানগণ) এবং এলাকাবাসী মিলে ব্যাংকের লোকজনকে জমি পরিদর্শনে বাধা দেন এবং প্রতিবাদ জানালে স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যাংকের লোকজন স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
ভূক্তভোগিরা জানান, পরে তারা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস তল্লাশি দিয়ে এবং দলিলাদি উত্তোলন করে জানতে পারেন, এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু তাদের পিতা ছফির উদ্দিন এর ৩৩৯ নং বি.আর.এস খতিয়ানের ভূয়া মালিকনার ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সৃজন করে বাশিল মৌজার মদন শেখের মালিকানাধীন এস এ খতিয়ান-২০, ছফির উদ্দিনের মালিকানাধীন বি.আর.এস খতিয়ান ৩৩৯ এর ২৩৬, ২৩৭,২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নং দাগ উল্লেখ করে একটি সম্পূর্ণ জাল দলিল সৃজন করেছেন। দলিল নং ৭৩৫৫। তারিখ ৩/১২/২০২৪। সৃজনকৃত এই জাল দলিলের ২ একর ১৯ শতাংশ জমিও আবার নামজারি করেন ফকর উদ্দন আহমেদ বাচ্চুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ এর অনুকূলে।
সম্মেলনে দাবী করা হয়, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে মিল ফ্যাক্টরীর ব্যবসা বাণিজ্য জবর দখলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ব্র্যাক এর জমি দখলসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগ ও নিরীহ জনগণের কয়েক শত বিঘা জমি বাচ্চুর আত্মীয় স্বজন ও অস্ত্রধারী পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জবর দখল করে নিয়েছেন। সম্মেলনে জানানো হয় জাল দলিল সৃজনে এমপি বাচ্চুর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, দলিলের সনাক্তকারী জিয়াদ হোসেন শাকিল ঢালী, দলিল লিখক সাইফুল আলম খান (সনদ নং ৫২৩২),স্বাক্ষী কায়সার ও হেলাল উদ্দিন। এমপি বাচ্চুর হাত থেকে বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হসক্ষেপ কামনা করেন ভূক্তভোগীরা।
এ ঘটনার সত্যতার বিষয়ে মতামত জানতে এমপি বাচ্চুর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে এই জমি ক্রয় করে আমি খাজনা খারিজ করেছি। দীর্ঘ সময়ে তাদের দাবীকৃত ভূমি সংক্রান্তে আইন আদালতের আশ্রয় না নিয়ে আমার মানহানী করার জন্য প্রতিপক্ষের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের অতিরঞ্জিত বক্তব্যের অভিযোগ ভীত্তিহীন।