
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
স্টাফ রিপোর্টার ।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে মারধরের পর নির্জন এলাকায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট ক্ষেতলাল থানাধীন মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওয়ার বিলের কাঁচা রাস্তার ওপর অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে অপর একজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি হলেন মো. বাদশা মিয়া (২৫), পিতা—জামাল মিয়া, সাং—নলপুকুর আদর্শগ্রাম, আলমপুর ইউনিয়ন, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট। আহত ব্যক্তি মো. মাজেদুল ইসলাম (১৮), পিতা—ইব্রাহিম, একই এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার, জয়পুরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)কে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার মেসার্স জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে রাখা একটি বাসের ছাদে থাকা গাড়ির স্পেয়ার চাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন বাদশা ও মাজেদুল। এ সময় বাসের চালক রফিকসহ ফিলিং স্টেশনের লোকজন তাদের চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন। পরে কিছু সময়ের জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, এরপর শান্তর নেতৃত্বে কয়েকজন পুনরায় সংগঠিত হয়ে ওই দুই তরুণকে আটক করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ওপর আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাদশা নিহত হন এবং মাজেদুলকে মৃত মনে করে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানাধীন মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওয়ার বিলের কাঁচা রাস্তার ওপর ফেলে রেখে আসামিরা চলে যান।