
বগুড়া থেকে ফিরে মোঃ হায়দার আলীঃ দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন বলেছেন, শুধু নেগেটিভ নিউজ করলে হবে না দেশের স্বার্থে সত্যনিষ্ঠা ও আগামীতে দেশের উন্নয়ন, সম্ভবনা, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে নিউজ করতে হবে। অতীতের মতই দৈনিক ইনকিলাবের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং টেকসই টেকনোলজিক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে এগিয়ে নিতে কাজ করবে ইনকিলাব ও এর সু-দক্ষ সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই ইনকিলাব সম্পাদকের নির্দেশনায় সামনের টেবিল সরিয়ে ফেলা হয়। খুব কাছাকছি থেকে যেন সকলের কথা স্পষ্টভাবে শুনা যায়। বিষয়টি সকলেই প্রশাংসা করেছেন। ইনকিলাব সাংবাদিকদের নির্বাচনী জরিপ বিগত দিনে সঠিক হয়েছে এবারও নিরপেক্ষ ও সঠিক হয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী দেশি বিদেশী অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে আপসহীন কলম সৈনিকের ভুমিকা পালন করবে টিম ইনকিলাব। তিনি আরও বলেন, সব সময় শুধু নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। তাই শুধু সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কথা না বলে দেশকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ ও জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হওয়া উচিত। তথ্যই শত্তি, দেশের মানুষ এখন আরও সচেতন, তারা ঘটনার মোটিভ বুঝেন। তথ্য উপাত্তের উপর বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।
এরপর প্রত্যেক ব্যুরো প্রধান, জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতাদের কাছ থেকে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাদের এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমুল্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ এবং আগামীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনার কথা জানতে চান। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং চাঁদাবাজির বিষয়ে সবার কাছ থেকে খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চান। মজার ব্যাপার হলো এসময় দেখা যায় সম্পাদক নিজে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানেন এবং বোঝেন। অনেক বিষয়েই ফ্যাক্ট চেক করে দেখিয়ে দেন সাংবাদিকতার জানা ও বোঝা সবকিছু অনুধাবন করে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান করে উপস্থাপনা কৌশলও হাতে কলমে দেখিয়ে দেন।
তিনি সাংবাদিকদের কীভাবে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থান, ভুরাজনীতির পারিপার্শ্বিকতা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে এবং বিশাল সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়ে সবসময় অবহিত এবং সচেতন হতে হবে সেটা বুঝিয়ে দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। সিনিয়র সাংবাদিকদের তিনি শরীর ও মন সজীব ও সুস্থ রাখার বিষয়েও টিপস দেন। শিক্ষার কোন শেষ নেই। প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকতে হলে সাংবাদিকদের ব্যাপক পড়াশোনা, তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়ে কঠোর দিক নির্দেশনা দেন। তিনি সাংবাদিকতা করতে গেলে এখন যে পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও আপডেট তথ্য সমৃদ্ধ থাকতে হবে সেটাও বুঝিয়ে দেন। নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি জানান, এই মুহুর্তে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং গ্যাস নিয়ে যে সুক্ষ যড়যন্ত্র চলছে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
মাননীয় সম্পাদক বলেন, ইনকিলাব দেশের স্থিতিশীলতার জন্য, গনতান্ত্রিক শাসনের ধারাবাহিকতার জন্য স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কখনোই আপোষ করেনি। ভবিষ্যতেও করবেনা বলে জানান। তিনি দেশ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ভারত ও মার্কিন ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিবেশী দেশের ককরোচ আন্দোলনের সফলতা প্রসঙ্গে বলেন, আপাতত মোদী টিকে গেলেও তার পতন নিশ্চিত হয়ে গেছে।
রোমান ও পারশিক সাম্রাজ্যের পতন হয় যখন তারা উন্নয়নের শিখরে উঠেছিল। ইতোমধ্যে ইরানের কাছে আমেরিকার নিরব পরাজয় হয়েছে এই বিষয়গুলি লেখালেখির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, এই মুহুর্তে সরকারকে আইনশৃংখলার উন্নয়ন ও দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ‘ এই কথাগুলো আপনাদেরই লিখতে হবে। বলতে হবে। শুধু অন্ধভাবে সরকার ও সরকারি দলকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চিন্তা পরিহারের সময় এসেছে। স্তাবক না হয়ে সরকারের ভুল ও অদুরর্শিতা বন্ধুর মতো ধরিয়ে দেওয়ায় হবে সমকালীন সাংবাদিকতার স্ট্যান্ড। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান ইনকিলাব এখন ইনকিলাব আজ আগামী বাংলাদেশের গাইড ইনস্টিটিউট এটার সামাজিক স্বীকৃতি মিলেছে।
বিদ্যুৎ আমদানিও কমেছে। গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে এবং উৎপাদন কমেছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিদ্যুৎ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নানামুখী পদক্ষেপে গত দু’দিন লোডশেডিং কিছুটা কমে এসেছে।
সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি এমন সংকট যা দিনে দিনে সমাধান সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট সমাধানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন। তবে আগামী দিনে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অবশ্য বর্তমান সংকট সমাধানে আরো অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি মধ্য রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সংকট অন্যান্য সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের একটি বড় অংশই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ করা হয়। এর ফলে দৈনিক আনুমানিক তিন হাজার ৫৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চরম চাপ তৈরি করছে। সরকার সেগুলো প্রতিরোধে চেষ্টা করছে।
এদিকে কয়েক দিন আগে দেশে তেলের যেভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, তেমনিভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার একটি যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আগুন লাগাও কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়, গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত মনিটরিং এবং অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। ব্যাটারি অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের একটি বড় অংশই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ করা হয়। এই চার্জ বন্ধ করা না গেলে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমানো সম্ভব নয়।
গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় অবৈধ সংযোগ ও লিকেজের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর।
মাননীয় সম্পাদকের কথার জাদুতে বেলা ১১ টার মিটিং শেষ হয় বিকেল ৪ টায়। তবে তাঁর মধ্যে কোন রকম ক্লান্তি শ্রান্তির ছাপ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্তকারী রয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। তোষামোদ নয়, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের কথা বলতে হবে। এর মাধ্যমেই প্রকৃত সাংবাদিকতার আদর্শ ফুটিয়ে তুলতে হবে।
এ সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, সংকট, সামাজিক সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংবাদে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার বিষয়ে মতামত দেন।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনা ও পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইনকিলাব ব্যুরো চিফ ফোরামের সভাপতি ও রাজশাহীর ব্যুরো প্রধান রেজাউল করিম রাজুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন বগুড়ার ব্যুরো প্রধান মহসিন আলী রাজু।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ব্যুরো চিফ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রবিউজ্জামান, সিলেটের ফয়সল আমীন, বরিশালের নাছিম উল-আলম, দিনাজপুরের মাহফুজুল হক আনার, ময়মনসিংহের শামসুল আলম খান, চট্টগ্রামের রফিকুল ইসলাম সেলিম, খুলনার আবু হেনা মুক্তি ও আসাফুর রহমান কাজল, কক্সবাজারের শামসুল হক শারেক, নোয়াখালীর এহসানুল আলম খসরু, লক্ষ্মীপুরের এস.এম. বাবুল (বাবর), যশোরের শাহেদ রহমান, ফেনীর মোঃ ওমর ফারুক, কুমিল্লার সাদিক হোসেন মামুন, ফরিদপুরের আনোয়ার জাহিদ, বেনাপোলের মোহসিন মিলন, গোদাগাড়ীর মোঃ হায়দার আলী, নীলফামারীর মুশফিকুর রহমান সৈকত, রংপুরের হালিম আনছারী, পাবনার ইমরান রনি শেখ, ঈশ্বরদীর মোঃ সেলিম আহমেদ, সৈয়দপুরের মোঃ নাজির হোসেন নজু, ঠাকুরগাঁওয়ের মাসুদ রানা পলক, সিরাজগঞ্জের সৈয়দ শামীম সিরাজি, পঞ্চগড়ের মোঃ সম্রাট হোসাইন ও ময়মনসিংহের শুভ বসাক প্রমূখ। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে আগামী বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রত্যেক সাংবাদিককে পুরোদেশের ভৌগলিক ও সামাজিক অবস্থা, দেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, পানি সম্পদ এবং বর্তমান টেকনোলজি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ব্যাপক অধ্যয়ন ও অধ্যাবসায়ের জন্য মনোযোগি হওয়ার পরামর্শ দেন।
মোঃ হায়াদার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।