বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

গোদাগাড়ীতে মা/দক ও জু/য়ায় যুবসমাজ ধ্বং/সের দ্বার প্রান্তে- নিঃ/স্ব হচ্ছে অনেক পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৭ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীতে মাদক ও জুয়ায় যুবসমাজ ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে। প্রতিদিন সন্ধ্যা পর থেকে গভীররাত পর্যান্ত চলে মাদক ও জুয়ার আসর। যুবসমাজ মাদক ও জুয়ার নেশায় বুধ হয়ে যাকে। এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না। এ সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার।

উপজেলার দেওপাড়ার ইউনিয়নের রাজাবাড়ী, মাটিকাটা ইউনিয়ন এলাকার সাহাব্দীপুর, গোপালপুর, বাইপাস সড়কের একটি দোকানের পেছনে, গোগ্রাম হাটের পাশে প্রতিদিন বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে স্থানীয় বহু পরিবার, আর ধ্বংসের মুখে পড়ছে এলাকার উঠতি বয়সের যুবসমাজ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিকার এই অবৈধ জুয়ার বোর্ডের মূল মালিক (বোডারু) লাইনপাড়া এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ি শুকুর। তার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই আসরটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আসর পরিচালনায় সহযোগীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম, কাঁঠাল তোলার কালু, লাইনপাড়ার বাবু, বাইপাসের আশরাফুল, কদমহাজির মোড়ের জাব্বার, মুন্জুর দোকানদারসহ অনেকে।

​এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মূল জুয়ার আসরটি আড়াল করতেই কৌশল হিসেবে রাস্তার পাশে দোকানটি তৈরি করা হয়েছে। এই স্পটটিতে গেলে মনে হয় যেন কোনো আনুষ্ঠানিক অটো, মোটরসাইকেল ও সাইকেলের গ্যারেজ বসেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কুখ্যাত জুয়াড়িদের এসব যানবাহন রাস্তার পাশে ভিড় জমায়।”প্রতিদিন প্রকাশ্যেই লাখ লাখ টাকার জুয়ার লেনদেন হচ্ছে। জুয়ায় হেরে অনেকে মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবার ও সন্তানদের ওপর। অপরাধীরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়ালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

কয়েক জন এলাকাবাসী জানান,
এভাবেই গোদাগাড়ীর তরুন মেধাবী (এদেশের সম্পদগুলো) সন্তানগুলো নষ্ট হচ্ছে। এই গোদাগাড়ীর অগনিত মেধাবী তরুন দেশ-বিদেশে অনেক বড় বড় পদে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কর্মরত আছেন,

এছাড়াও গোদাগাড়ীর অগনিত চৌকস, মেধাবী সন্তানগণ USA, UK, China, UAE Australia, Canada সহ বিভিন্ন দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও স্কলারশিপ নিয়ে সাফল্য পেয়ে, উন্নত ক্যারিয়ার গড়ছেন।
অপর দিকে হাজারো উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে, মাদক-জুয়ার কারণে নিজেরাসহ তাদের পরিবারের সোনালী সুন্দর স্বপ্নগুলোকে কবর দিচ্ছে। অথচ, সমাজ ও উপজেলায় এত বড় বড় বক্তৃতা দানকারী রাজনৈতিক, সামজিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা থাকা সত্বেও, কেন গোদাগাড়ী সামজিক পরিবেশে মাদক-জুয়ার ভয়াল অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছে না। কারণ এদের সাথে অসৎ পুলিশ প্রশাসন জড়িত । এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ছেলেমেয়েদেরকে দীনই শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞাব-বিজ্ঞান, প্রযুক্তির বিভিন্ন সৃজনশীল উন্নয়নমুখী কার্যকলাপরে সাথে সংশ্লিষ্ট করে, আআন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে।

এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), যেকোন লীগ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে অনলাইন জুয়ার আসর জমে উঠে। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সূত্র জানায়, কিছু অসাধু অনলাইন বেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গোপনে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তরুণ ও যুবকদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অনেক যুবক প্রথমে ছোট অঙ্কের বাজি ধরে শুরু করলেও পরে বড় অঙ্কের লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে অনেকেই আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, পরিবারের সঞ্চয় নষ্ট হচ্ছে এবং ঋণের জালে আটকে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গ্রুপে যুবকরা মোবাইল নিয়ে বসছেন। কেউ কেউ নিজ ঘরে বা দোকানের পেছনে লুকিয়ে অনলাইনে ম্যাচের প্রতি বল, ওভার, ম্যাচের উপর মোটা অঙ্কের বাজি ধরছেন। এই কার্যক্রম এতটাই গোপনে চলছে যে, প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিভাবক ও সচেতন মহলে এ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছেলেরা পড়াশোনার টেবিল ছেড়ে জুয়ায় মেতে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।” বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জুয়ায় হেরে গিয়ে মানসিক চাপ, হতাশা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্ব, কলহ বাড়ছে।

এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল, গোদাগাড়ী জুয়া, মাদক বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আনা প্রয়োজন মনে করছেন।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin