
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
স্টাফ রিপোর্টার ।।
সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি মুকুল গ্রামের সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে তলিয়ে যেত। কাদা ও নোংরা পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হতো দুই গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সড়কটি সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক নেতা সোহেল রানা। নিজের অর্থায়নে তিনি সড়কটি সংস্কার করেছেন।
জানা গেছে, সোহেল রানা উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের দাশড়া সড়াইল গ্রামের মরহুম আ.ফ.ম. হামিদুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বাবা মরহুম আ.ফ.ম. হামিদুল হক উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সম্প্রতি সড়কটির বেহাল দশা ও মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে দৈনিক খোলা কাগজ, দৈনিক আজকের সংবাদ, দৈনিক এশিয়া বাণী, দৈনিক চাঁদনী বাজার, দৈনিক জয়পুরবার্তা, ইংরেজি দ্যা কান্ট্রি টুডেসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নজরে আসে সোহেল রানার।
স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে দেরি না করে নিজ অর্থায়নে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন তিনি। সংস্কারকাজের শুরুতে সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত ইট তুলে ফেলা হয়। পরে প্রায় দুই ফুট উঁচু করে বালি দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হয়। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি যাতে সড়কের ওপর জমে না থাকে, সে জন্য রাস্তার পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সড়কটি সংস্কারের পর বদলে গেছে আগের চিত্র। যেখানে কিছুদিন আগেও সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি ও কাদার কারণে চলাচল করা কঠিন ছিল, এখন সেখানে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির দুরবস্থার কারণে তারা নানা সমস্যার মধ্যে ছিলেন। বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকের পায়ে ঘা পর্যন্ত হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর সোহেল রানা যেভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি সংস্কার করেছেন, তা প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টি হলে কাদা ও নোংরা পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে পানি পার হতে হয়েছে। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় আমাদের চলাচলে অনেক স্বস্তি এসেছে। আমরা সোহেল রানার জন্য দোয়া করি।
স্থানীয়দের মতে, সংবাদমাধ্যমে কোনো এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরলে তা সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে এবং অনেক সময় দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হয়। এই সড়কের ক্ষেত্রেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এলাকার অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সড়কটির দুরবস্থা ও মানুষের কষ্টের বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি জানার পর আর অপেক্ষা করতে পারিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষের চলাচলে যদি একটু স্বস্তি দিতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো প্রয়োজন ও দুর্ভোগে পাশে থাকার চেষ্টা করব।