বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

রাজশাহীতে হঠাৎ পাটের দরপতন চাষিরা হতাশ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ Time View

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীতে মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম চাঙা থাকলেও হঠাৎ করেই তা কমে গেছে।এতে উৎপাদন ভালো হলেও দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। বেশীরভাগ চাষিই পাট গুদামজাত করতে পারেন না। দায় মেটাতে যেমন শ্রমিকের মজুরি, সংসারের খরচ ও বিভিন্ন দোকানে ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে উৎপাদনকারী কৃষক কম দামে পাট বিক্রিতে বাধ্য হন।কৃষকের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।তারা হঠাৎ করেই পাট কেনা বন্ধ করে দেয়ায় পাটের দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন চাষিরা।কিন্ত্ত পাট সংরক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা বাধ্য হয়ে কমদামে পাট বিক্রি করছে।
জানা গেছে, এবারে সর্বনিম্ন দাম মণপ্রতি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। আর সর্বোচ্চ দাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার বড় পাট মোকাম নওহাটা বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা দরদাম করে এসব পাট কিনে মজুত করছেন। অথচ কয়েকদিন আগে মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর (প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার বিঘা) জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে এক হাজার ৯৪ হেক্টর (প্রায় আট হাজার বিঘা)। পাশাপাশি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও বেড়েছে। এবারে ৪৯ হাজার ৩৩৩ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের উৎপাদনের তুলনায় ৬৫৬ মেট্রিক টন বেশি।
এদিকে পবার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিক-সবকিছুর খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। পাটের জাগ দেয়া শুকানো, প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রিতে ধকল পোয়াতে হয়। এত পরিশ্রমের পরও লোকসান হলে আগামী বছর পাটচাষে আগ্রহ হারিয়ে যাবে। সরকার যে পাটের মূল্য নির্ধারণ করেছেন সেটাও মনে হচ্ছে অফিসে বসেই মনগড়া করেছেন। কারণ বর্তমান বাজারে প্রতিমণ পাটের মূল্য তিন হাজার ৮শ’ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করা উচিৎ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিঘাপ্রতি গড়ে ৮-১০ মণ পাট উৎপাদন হয়। গড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করলে দাম আসে ৩৫ হাজার থেকে ৩৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে শ্রমিক, নিড়ানি, পাট কাটা, ভেজানো, আঁশ ছাড়ানো ও পরিবহন মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা। ফলে লাভ থাকছে নামমাত্র। তবে পাটখড়ি কিছুটা বোনাস হিসেবে থাকছে। এই অবস্থায় পাট রপ্তানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।
এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, পাটকলগুলোর বেঁধে দেওয়া দাম ঘিরেই তাঁরা পাট কিনছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার নতুন পাট বেশি দামে কেনা হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন, যেসব দেশ বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি করে, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশ এবার কিনছে না। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হাটবাজারে।
এব্যাপারে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, ‘পবায় এবার পাটের সার্বিক অবস্থা ভালো। আগাম জাতের পাট অল্প সময়ের মধ্যেই কাটা শুরু হবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ভালো মানের আঁশ পেতে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত গভীর পানিতে পাট জাগ দেওয়া প্রয়োজন। এই বাজারে পাট বিক্রি করলেও লোকসান হবে না বলে জানান তিনি।#

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin