বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

ক্ষেতলালে বড় ভাইয়ের ভোগদখলের জমি জো/রপূর্বক দখ/লের চেষ্টার অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৪ Time View

মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের সমন্তাহার গ্রামে এ ঘটনায় বড় ভাই বাবলু প্রামাণিকের ছেলে মো. শাহিন প্রামাণিক বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমন্তাহার গ্রামের বাবলু প্রামাণিক ও তাঁর ছোট ভাই সাজ্জাদুল হক ওরফে ভুট্টুর মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমিটি দক্ষিণ তাওসারা মৌজার জেএল নম্বর-১৫০, আরএস খতিয়ান নম্বর-১৩৬ ও দাগ নম্বর-১৪৫-এর অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৫৬ শতক জমির মধ্যে সাজ্জাদুল হক ৩৩ শতক জমির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তোভুগী বাবলু পক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। জমির খাজনা পরিশোধ, নামজারি-খারিজসহ বিভিন্ন কাগজপত্রও তাঁদের নামে রয়েছে। সম্প্রতি জমি দখলকে কেন্দ্র করে ফের বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগে গত ইরি মৌসুমে ওই জমির ধান কাটা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে কাটা ধান মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়। উভয় পক্ষ নিজেদের জমির কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীর কাছে গেলে তাঁর লিখিত মতামত নেওয়া হয়। এরপর সেই মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ধান বাবলু পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এ ঘটনার পরও জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আবারও বৈঠক বসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জমির কাগজপত্র ও মালিকানা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাজ্জাদুলের পক্ষ বাবলু ও তাঁর ছেলে শাহিনের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঠেলাঠেলির ঘটনা ঘটে।

মামুদপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন বলেন, বাবলু ও ভুট্টু আপন ভাই। একটি জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ইরি মৌসুমেও ধান কাটার পর সমস্যা হয়েছিল। পরে ধান আমার জিম্মায় রেখে উভয় পক্ষ আইনজীবীর কাছে কাগজপত্র দেখান। আইনজীবীর মতামতের পর ধান বাবলুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আজও উভয় পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে বসলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঠেলাঠেলি হয়। এ সময় আমি ও দুই ইউপি সদস্যসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদুল হক ওরফে ভুট্টুর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিবিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনজীবীর লিখিত মতামত থেকে জানা যায়, বাবলু ও সাজ্জাদুলসহ ছয় ভাই ১৯৭৭ সালের একটি রেজিস্ট্রি করা হেবা দান দলিলের মাধ্যমে তাঁদের দাদির কাছ থেকে জমি পান। আইনজীবীর মতামতে ওই সম্পত্তি ছয় ভাইয়ের মধ্যে ভাগ হওয়ার পর প্রত্যেকের অংশের হিসাব প্রায় ৪৯ দশমিক ৪৭ শতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাবলু পক্ষের দাবি, সাজ্জাদুল বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রাপ্য অংশের জমি বিক্রি করেছেন। তাঁদের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে সাজ্জাদুলের প্রায় ১০৭ শতক জমি হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশি জমি হস্তান্তরের পরও তিনি বাবলুর দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমির অংশ দাবি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সাজ্জাদুল পক্ষেরও জমির মালিকানা নিয়ে নিজস্ব দাবি রয়েছে। উভয় পক্ষের দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে একজন আইনজীবী লিখিত মতামত দিয়েছেন। যে মতামতের রায় বাবলুর পক্ষে রয়েছে। তবে ওই মতামত আদালতের রায় নয় এবং এতে জমির চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারিত হয়নি।

এ জমি নিয়ে এর আগে এমন ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলাও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin