বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

সাবেদুলের মৃ/ত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবিতে গোদাগাড়ীতে বিক্ষো/ভ ও মান/ববন্ধন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর কলোনির নির্মাণশ্রমিক সাবেদুল ইসলামের (৩৪) মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবিতে সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে সকালে রাজাবাড়ীহাট এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়

বক্তরা দাবী করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তার ‘খুনিদের’ বিচার চেয়ে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধনও করেছেন।

‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে সকালে রাজাবাড়ীহাট এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এলাকার সমাজসেবক আব্দুর রউফ। কর্মসূচিতে ফেস্টুন হাতে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

গত ২৪ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতে রাজাবাড়ীহাটে শেষবারের মতো দেখা যায় সাবেদুল ইসলামকে। ২৬ জুলাই ভোরে রাজাবাড়ী এলাকার পুকুরে তার ভাসমান মরদেহ পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, চোখে ঢোকানো হয়েছিল পিন।

এছাড়া তার জিহ্বা কাটা হয়েছিল, শরীরে ঢালা হয়েছিল গরম পানি। তবে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়নি। পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলছেন। খুনিদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

মানববন্ধনে রাজাবাড়ী-দরগাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছে। সেদিন দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই লাশের গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। বড় বড় ফোসকা পড়েছে। প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে বলি- এটা যেখানকারই লাশ হোক। একে কিন্তু নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশের গায়ে গরম পানি দেওয়া হয়েছিল। সবাইকে বলেছি আমি এটা হত্যাকান্ড আপনারা একটু দেখেন। কিন্তু পরে শুনি যে ওসি সাহেব বলেছেন সাধারণ মৃত্যু। তিনি কোন জায়গায় তদন্ত করে বললেন আমরা জানি না।’

নিহত সাবেদুলের স্ত্রী আদরী খাতুন মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জিহ্বা কাটা হয়েছে, দাঁত ভাঙা হয়েছে, তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। গরম পানিও ঢালা হয়েছে। আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ কিছুটা থেমে সাড়ে ৪ বছরের মেয়েকে দেখিয়ে ডুকরে কাঁদতে থাকেন আদরা। বলেন, ‘আমি ছোট মেয়েটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা বাচ্চাকে যে এতিম করেছে তার আমি বিচার চাই।’

সাবেদুলের মা আবেদা বেগম বলেন, ‘শেষবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে আমাকে বলেছিল তাকে মেরে পুঁতে দিবে। আমি জানতে চেয়েছিলাম কে পুঁতে দেবে? সে বলেছিল কয়জন তাকে হুমকি দিচ্ছে যে যেখানে পাবে সেখানে মেরে পুঁতে দেবে। তারাই মেরেছে।’

বিজয়নগর কলোনির বাসিন্দা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিচার চাই। গরীব মানুষ বলে কি তারা আজ বিচার পাবে না? আমরা গরিব পাড়ায় থাকি বলে কি বিচার পাব না? তার মা চেয়ে-চিন্তে খায়। আজ আটদিন হয়ে গেল তার বিচার নাই। কাল আমার ছেলেকেও তো এভাবে হত্যা করা হতে পারে। তখন কি আমরা বিচার পাব না? আমরা সত্য বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাশ দেখেছি। ওর দাঁত নাই, চোখ নাই, জিহ্বা কাটা, শরীরে অনেক ফোসকা। মাথায় আঘাতের দাগ ছিল। এত কিছু হত্যা না হলে হতো না। সাবেদুলকে মেরে পুকুরে ভাসিয়ে দিয়েছিল। এক সপ্তাহ হয়ে গেল প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারা এই হত্যা করেছে পুলিশকেই তদন্ত করে বের করতে হবে।’

মানববন্ধনে বক্তারা কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তারা এলাকার প্রভাবশালী। তারা দলীয় ছত্রছায়ায় আছে। এরা পুলিশেরও সোর্স। তাই পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। বক্তারা বলেন, সাবেদুলকে মারার আগে তারা তাকে সনির দোকানে চা খাইয়েছে। তারপর আরিফের দোকানে চা খাইয়েছে। এভাবে সাথে সাথে রেখে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সাবেদুলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সারাক্ষণই খোঁজখবর নিচ্ছে। আমরাও অনুসন্ধান করছি। আমরা লাশের ময়নাতদন্ত করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin