
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী জেলার প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ও উপজেলার রাস্তার বেহালদশা শুরু হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। ক্ষোভে , প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপন করেছেন। উপজেলার কিছু রাস্তার চিত্র একই। এ পৌরসভার বেশ কয়েকটি রাস্তার বেহালদশা। সামন্য বৃষ্টিতে গোদাগাড়ী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের রাস্তার বেহালদশা শুরু হয়, চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মোঃ দেলওয়ার বলেন, জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডক্টর ওবাইদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে যাচ্ছেন। ৭ নং ওয়ার্ডে আসছেন না কেন? এসে দেখে যান রাস্তার কি খারাপ অবস্থা। ১ নং ওয়ার্ডর গড়েরমাঠ থেকে তালতোলার রাস্তাটি টানা বর্ষণের ফলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গোদাগাড়ীর নুরুজ্জামান রাস্তার বেহালদশা ও জনদুর্ভোগ কথা বলে শেষ করা যাবে না।
গত ১৫ বছর থেকে এভাবেই আছে কেউ দেখার নাই ডাইংপাড়া থেকে ১০ টাকা রিকশা ভাড়া, ৪০-৫০ টাকা দিতে চেয়েও আসেন না, পা ধরা লাগে। এই রাস্তা কি কোনোদিন ভালো হবে না? আমার বাইরের রিলেটিভরা আসলে বলে,, পৌরসভার রাস্তা দেখলেই বুঝা যাই গোদাগাড়ী কতোটা উন্নত। রাস্তাগুলো ঠিকই ছিল। যখন থেকে বালু ব্যবসা শুরু হয়েছে, ভারি যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে বিশেষ করে বালুর ট্রাক, ট্রাক্টর তখন থেকে রাস্তাগুলোর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের তুলশিপুর গ্রামের একটি রাস্তার এত খারাপ অবস্থা যে ওই রাস্তায় গত ১ মাস থেকে কোন হালকা ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি মানুষও পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হতে পারে না। তাই প্রতিবাদ হিসেবে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপন করেছেন।
এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভাব হয় নি।
মাটিকাটা ইউনিয়নের প্রেমতলী খেতুরদাম এলাকার রাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের উপর ব্যাপক কাঁদা জমে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খেতুরদাম এলাকায় মাটি কাটার ফলে সেই মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। এতে সড়কটি পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে কাঁদা জমে যায়। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন হালকা ভারী যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে।
ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাদা ও পিচ্ছিলতার কারণে পথচারীরা পড়ে গিয়ে আহত হতে পারেন, পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাস্টি বোর্ডকে নিতে হবে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, খেতুরদাম ট্রাস্টি বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই সড়কের এই সমস্যার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ আরও বেড়েই চলেছে। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত রাস্তা সংস্কার, কাঁদা অপসারণ এবং মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পৌরসভার প্রকৌশলী ও সচিবের দায়িত্বে থাকা সাওয়ার জাহান মুকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে পৌরসভার ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, এ বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।