
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়: বিয়ের পর দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় আইনি প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন হয় নিকাহনামা। কিন্তু সেই নিকাহনামার জন্য দিনেৎ পর দিন ঘুরতে হচ্ছে একটি পরিবারকে। নিকাহনামা সরবরাহে টালবাহানা করার পাশাপাশি আপস-মীমাংসার প্রস্তাব এবং অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের এক কাজীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কাজীর নাম মাওলানা ইমদাদুল হক। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রয়েছেন।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড় জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ মে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর মেয়ের বিয়ে হয়। ওই বিয়ে নিবন্ধন করেন অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা ইমদাদুল হক। বিয়ের সময় কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় কাজী আশ্বাস দেন- বয়স পূর্ণ হলে নিকাহনামা সরবরাহ করবেন। এরই মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়ন শুরু হয়। এরপর আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য একাধিকবার নিকাহনামা চাইতে গেলে প্রথমে কনের বয়স পূর্ণ না হওয়ার অজুহাত দেন অভিযুক্ত কাজী। কিন্তু বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও নিকাহনামা না দিয়ে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে কালক্ষেপণ করছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজী মেয়ের পরিবারকে নিকাহনামা সরবরাহ না করে ছেলের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এনে দিয়ে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার এতে রাজি না হলে নিকাহনামা দেওয়ার আগে ৫ লাখ টাকার কর্জে হাসানার স্ট্যাম্প লিখে দেওয়ার শর্ত আরোপ করেন। ওই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানানো হলে আজ পর্যন্ত নিকাহনামা সরবরাহ করা হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি- সংশ্লিষ্ট কাজীর সঙ্গে হওয়া একাধিক কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে তিনি নিজেই বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নিকাহনামা সরবরাহ, আপস-মীমাংসার প্রস্তাব এবং বিভিন্ন শর্তের বিষয়েও কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিকাহনামা সরবরাহে অযৌক্তিক বিলম্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা দাবি এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগ এনে বিষয়টি তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নিকাহনামা সরবরাহের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা ইমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একেক সময় একেক ভাবে কথা বলেন। কখনো বিয়ে নিবন্ধনের বিষয় অস্বীকার করেন, আবার কখনো বিভিন্ন অযুহাত দেন।
সাংবাদিকের এক জোড়ালো প্রশ্নে বলেন তার প্রতিবন্ধকতার কথা। জানান, ছেলে পক্ষ তাকে উকিল নোটিশ দিয়েছিল এবং এর লিখিত জবাবও দিতে হয়েছে তাকে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ের জেলা রেজিস্ট্রার আফছানা বেগম বলেন, ওই কাজীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।