
আমিরুল ইসলাম কবির,
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১নং খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মোজাহিদপুর স.প্রা.বি. এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার এর বিরুদ্ধে,কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি,জমি দাতা সদস্যকে লোকজন লেলিয়ে দিয়ে মারপিট,হুমকি,অশালীন গালমন্দ, স্কুল ফাঁকি,শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসেজ,উকুন তুলে নেয়া ও স্কুলের সংস্কারের নামে বরাদ্দের আড়াই লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে সম্পুর্ণ টাকা আত্মসাৎ সহ অসংখ্য অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে জমি দাতা। মো. মোস্তফা কামাল ও অভিভাবক মো. আব্দুস সবুর যৌথ স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে ৭ই জুলাই দাখিল করেছেন।
সরেজমিনে ও অভিযোগে প্রকাশ,ওই বিদয়্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. সালমা আক্তার নিজের ইচ্ছেমাফিক এসএমসি কমিটি গঠনের পায়তারা করিয়া আসিতেছেন।পরবর্তীতে উক্ত বিষয়ে এলাকার কিছু প্রগতিশীল লোকজনের সহযোগিতায় ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে মোতাবেক গত ১৪/০৬/২৬ ইং তারিখে মনোনয়ন পত্র বিক্রয় এবং পরবতীতে যাচাই বাছাই অন্তে ২১/০৬/২৬ ইং তারিখে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন হঠাৎ করেই দুজন সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। আর এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোছা. ইসরাত জাহান নিতু’র উপস্থিতিতে গত ২১/০৬/২৬ ইং তারিখে ৪জন অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে নাম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে বাকী ৮জন সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে পাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাই’কে এটিও’র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপর ২২/০৬/২৬ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক আব্দুর হাই এবং অভিভাবক সদস্যদের উপস্থিতিতে মোট ১২ জন সদস্য চুড়ান্ত করে লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার ২২/০৬/২৬ ইং তারিখে চুড়ান্ত বা প্রকাশিত ১২ জন সদস্যের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনজুরুল ইসলামের নাম পরিবর্তন করে প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার এর পক্ষের শিক্ষক মো. আহকাম হাবিব’কে অন্তর্ভুক্ত করে ১২ সদস্যের পুর্নাঙ্গ কমিটিতে স্বাক্ষর গ্রহণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি আর গোপন না থাকলে এলাকার অভিভাবক,সদস্য ও সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতকিছুর পর ০৬/০৭/২৬ ইং তারিখে সকাল প্রায় ১১টার দিকে ১২জন সদস্যকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে বলেন এবং সকল সদস্য যথাসময়ে উপস্থিত হন। এমতাবস্থায় এটিও’র ভূয়া প্রতিনিধি এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপনে ও কৌশলে তাদের পক্ষের সহকারী শিক্ষক মো. আহকাম হাবিব এর নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশিত হলে উভয় পক্ষের লোকজনের মাঝে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, ধাক্কা ধাক্কি ও অশ্লীল গালমন্দে গড়ায়। একপর্যায়ে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার, তার স্বামী জোবায়দুর ও ছেলে সৌমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মো. মোস্তফা কামাল এবং অভিভাবক সদস্যদের বেধড়ক মারপিট করে বিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।